প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল ! কীভাবে চালাবেন ক্লাস? মাথায় হাত প্রধান শিক্ষকদের

সুপ্রিম কোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের স্কুলগুলির প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকারা চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়েছেন। বহু স্কুলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন। ফলে, পঠন-পাঠন কীভাবে চালানো সম্ভব হবে, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী মিলিয়ে মোট ২৫ হাজার ৭৫২ জনের চাকরি বাতিল করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালত ২০১৬ সালের পুরো প্যানেলটিই বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, যারা প্রশ্নাতীতভাবে ‘অযোগ্য’ বা ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন, তাঁদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি ইতিমধ্যেই পাওয়া বেতনও ফেরত দিতে হবে। তবে, যে প্রার্থীদের অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা যায়নি, তাঁদের নিয়োগ বাতিল হলেও বেতন ফেরত দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষভাবে সক্ষম প্রার্থীদের ক্ষেত্রে অবশ্য সুপ্রিম কোর্ট স্বস্তি দিয়েছে। তাঁদের আপাতত কাজে বহাল থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বেতনও পাবেন।
এই রায় ঘোষণার পর রাজ্যের শিক্ষা মহলে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। বহু স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, হঠাৎ করে এত সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি যাওয়ায় পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। বিশেষত, যে স্কুলগুলিতে শিক্ষকের সংখ্যা এমনিতেই কম, সেখানে এই পরিস্থিতিতে ক্লাস নেওয়া কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক স্কুলেই ৫০ শতাংশের বেশি শিক্ষক চাকরি হারিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি নিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ বহাল থাকবে কিনা, সেই সংক্রান্ত মামলার শুনানি আগামী ৮ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে।
এবিপি আনন্দ লাইভের সূত্রে খবর, চাকরির নামে রাজ্য সরকার দুর্নীতির কাঁকর আলাদা করতে না পারায় প্রায় ছাব্বিশ হাজার স্কুল শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী আজ বেকার হয়ে গেলেন। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চের রায় বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, বৃহত্তর পরিসরে জালিয়াতি হয়েছে এবং সেই জালিয়াতি ধামাচাপা দিতে গিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া অপূরণীয়ভাবে কলুষিত করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।