IC-র স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের”, বণিক পরিবারের কাছে ছিল না বাজি কারখানার লাইসেন্স !

ঢোলাহাটের বাজি বিস্ফোরণকাণ্ডে এবার উঠে এল বিস্ফোরক তথ্য। ঢোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (IC) যে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছেন, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে যে বণিক পরিবারের ওই বাজি কারখানার কোনও বৈধ লাইসেন্স ছিল না। শুধু তাই নয়, বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডারের একেবারে কাছেই অবৈধভাবে বাজি মজুত করে রাখা হয়েছিল। সোমবার রাত ৮টা ২৫ মিনিটে সেই মজুত বাজিতেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
ঢোলাহাট থানার আইসি দেবাশিস রায়ের দায়ের করা এফআইআর-এ এই চাঞ্চল্যকর তথ্যগুলি উল্লেখ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের ঘটনায় বণিক পরিবারের পাঁচ সদস্যের নামে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন মৃত। মৃত অরবিন্দ বণিক এবং তাঁর দুই ছেলে চন্দ্রকান্ত বণিক ও তুষার বণিক ছাড়াও চন্দ্রকান্তের স্ত্রী সান্ত্বনা বণিক ও তুষারের স্ত্রী সুতপা বণিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই চন্দ্রকান্ত বণিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, তবে তার ছোট ভাই তুষার বণিক এখনও পলাতক।
পুলিশের এই দাবি গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর করা মন্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল দাবি করেছিলেন যে ওই বাজি কারখানার লাইসেন্স ছিল। তিনি বলেছিলেন, “এখানে নিশ্চয়ই যে ঘটনা ঘটেছে, তার তো লাইসেন্স হোল্ডার ছিল, সে তো লাইসেন্স হোল্ডার। আপনার বাড়িতে আপনি তো গ্যাসটাকে সামলে রাখবেন। আমার বাড়িতে ধরুন, আমি তো রান্না করি না। যারা করে, তাদের দায়িত্ব গ্যাসটাকে সামলে রাখার। এটা আমাদের অনেক শিক্ষা দেয়। লাইসেন্স হোল্ডার ক্র্যাকার, আর গুজরাতে যে ২৫ জন মারা গেছে, সেটা লাইসেন্স হোল্ডার নয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরেই পুলিশের এফআইআর-এর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্সবিহীন কারখানায় কীভাবে এত বিপুল পরিমাণে বাজি মজুত করা হয়েছিল এবং কেন গ্যাস সিলিন্ডারের পাশে তা রাখা হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে, পুলিশের এই নতুন তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সকলের নজর। পলাতক তুষার বণিকের সন্ধান চালাচ্ছে পুলিশ এবং ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।