“সংসদ ভবনও ওয়াকফ সম্পত্তি…”- বিরোধীদের উদ্দেশে তোপ দাগলেন মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর

লোকসভায় ব্যাপক শোরগোলের মধ্যেই পেশ করা হলো ওয়াকফ সংশোধনী বিল। সংখ্যালঘু কল্যাণ মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বিলটি উত্থাপন করে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, এই সংশোধনী আনা অত্যন্ত জরুরি ছিল।

রিজিজু ব্যাখ্যা করে বলেন, “২০১৪ সালে আমরা সরকার গঠন করি, কিন্তু তার আগে ২০১৩ সালে ওয়াকফ নিয়ে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল যা অবিশ্বাস্য। যদি এই সংশোধনী বিল না আনা হত, তাহলে আজ সংসদ ভবনও ওয়াকফ সম্পত্তি হয়ে যেত!”

মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৭০ সাল থেকে ওয়াকফ বোর্ড সংসদ ভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের দাবি করে আসছিল। ২০১৩ সালে কিছু জায়গা ডিনোটিফাই করা হয়েছিল, কিন্তু তাতেও বিতর্কের অবসান ঘটেনি। তিনি বলেন, “মোদী সরকার যদি এই সংশোধনী বিল না আনত, তাহলে দিল্লির বসন্ত কুঞ্জ, বিমানবন্দরসহ ১২৩টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান ওয়াকফ সম্পত্তির অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেত।”

বিরোধীরা এই বিলের বিরোধিতা করলেও কিরেন রিজিজু দাবি করেন, এই সংশোধনীতে মুসলিমদের ধর্মীয় বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করা হয়নি। তিনি জানান, “ওয়াকফ আইনের ১০৮ ধারা অনুযায়ী, ওয়াকফ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত যে কোনো আইনকেও অগ্রাহ্য করতে পারে, যা স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।”

মন্ত্রী আরও বলেন, এই বিল আনার আগে ৯৭ লক্ষের বেশি মানুষের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫টি রাজ্যের ওয়াকফ বোর্ডের মতামতও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

ভারতে প্রথম ওয়াকফ বোর্ড আইন কার্যকর হয় ১৯৫৪ সালে। এরপর বিভিন্ন সময়ে এটি সংশোধিত হয়েছে। ১৯৯৫ সালে বড় পরিবর্তন আনা হলেও তখন তেমন বিতর্ক হয়নি। কিন্তু এখন বিরোধীরা কেন এটিকে অসাংবিধানিক বলে দাবি করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন রিজিজু।

তিনি স্পষ্ট করে দেন, “ওয়াকফ বোর্ডের কাজ হল জমি পরিচালনা করা, মালিকানা দাবি করা নয়। মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় দান-খয়রাতের ওপর সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।”

ওয়াকফ সংশোধনী বিল পেশের পর থেকেই বিরোধীরা অভিযোগ করছেন, এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, সরকারের দাবি, এই বিলের মাধ্যমে ওয়াকফ সম্পত্তির যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

এই বিলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।