আবর্জনা থেকে পড়া ‘হাত’ উদ্ধার, তদন্তে নেমে চমকে গেলেন পালিশ!

জার্মানির রোস্টক শহরে এক অদ্ভুত ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এক ব্যক্তি তার কুকুরকে নিয়ে রাস্তায় বেরোনোর সময় একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে বেরিয়ে থাকা পোড়া হাতের অংশ দেখতে পান। সন্দেহ হওয়ায় তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশে খবর দেন।

খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে আসে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, খুনের তদন্তকারী দল এবং অত্যাধুনিক ৩ডি স্ক্যানার সহ বিশাল পুলিশ বাহিনী। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়, এমনকি ড্রোন উড়িয়েও চালানো হয় ব্যাপক তল্লাশি। মৃতের সৎকার্যের জন্য প্রস্তুত রাখা হয় অন্ত্যেষ্টিকর্মীকেও।

কিন্তু পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চুলচেরা তদন্তের পর যা জানা যায়, তাজ্জব বনে যান তদন্তকারীরা। উদ্ধার হওয়া পোড়া হাতের অংশটি কোনো মানুষের দেহের অংশ নয়, বরং সেটি ছিল একটি উন্নতমানের ‘আদর পুতুল’-এর পোড়া হাত! পুতুলের মালিক সম্ভবত সেটি পুড়িয়ে আবর্জনার মধ্যে ফেলে দিয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর এক বিবৃতিতে রোস্টক পুলিশ জানায়, ‘‘তদন্ত তৎক্ষণাৎ বন্ধ করা হয়েছে। সৌভাগ্যবশত অন্ত্যেষ্টিকর্মীকে আর ডাকতে হয়নি। আমরা নাগরিকদের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন তাদের আবর্জনা সঠিকভাবে ফেলেন।’’

সাম্প্রতিক সময়ে জার্মানির বিভিন্ন শহরে এমন বিভ্রান্তিকর ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। কয়েক দিন আগেই বিঙ্গেন শহরের একটি পার্কের বেঞ্চে পড়ে থাকা একটি আদর পুতুলকে মৃতদেহ ভেবে ঘিরে ফেলেছিল পুলিশ। গত সপ্তাহে ব্যাড ক্রয়ৎসনাখে একটি মাঠ থেকে উদ্ধার হওয়া ‘‘মানবদেহের অংশ’’ আসলে ছিল সিলিকনের তৈরি নকল পশ্চাদ্দেশ! এমনকি ফেব্রুয়ারি মাসে হ্যানোভারে দমকল বাহিনী একটি খাল থেকে ভাসমান ‘মৃতদেহ’ উদ্ধার করতে গিয়ে জানতে পারে সেটিও একটি পরিত্যক্ত আদর পুতুল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনার বৃদ্ধির প্রধান কারণ হল আদর পুতুলের ক্রমবর্ধমান বিক্রি। বিশেষ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্রযুক্তি সম্পন্ন পুতুলগুলোর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চীনের একটি সংস্থা WMDolls জানিয়েছে, সম্প্রতি তাদের আদর পুতুল বিক্রি ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেগুলিতে এআই প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে। এই পুতুলগুলি এখন কথা বলতে পারে এবং আগের কথোপকথনও মনে রাখতে সক্ষম! ইতিমধ্যেই ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় শতাধিক এআই চালিত আদর পুতুল পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, জার্মান পুলিশ নাগরিকদের তাদের আবর্জনা সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার এবং সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত খবর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে, তবে একই সাথে আবর্জনা ফেলার ক্ষেত্রে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।