পাথরপ্রতিমায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ! ‌‘‌আমরা দাবি করছি এনআইএ হোক’‌- দিলীপ ঘোষ

পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানা এলাকায় গতকাল এক ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বিস্ফোরণের ঘটনার সাথে একটি বেআইনি বাজি কারখানার যোগসূত্র রয়েছে। দুটি বাজি কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে, এবং বিজেপি এই বিষয়টি নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েছে। বিরোধীরা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পাথরপ্রতিমার বিস্ফোরণটি ঘটে যখন এলাকাতে বাসন্তী পুজোর প্রস্তুতি চলছিল। সূত্রে খবর, চন্দ্রকান্ত বণিকের বাড়িতে বেআইনি বাজি তৈরি হচ্ছিল। হঠাৎ করেই বাজির স্তূপে আগুন লেগে যায়, এবং তার ফলস্বরূপ একাধিক গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। বিস্ফোরণটি এতই তীব্র ছিল যে, বাসিন্দারা কোনোরকমে বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি এবং বেশিরভাগ সদস্যই জীবন্ত অবস্থায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের বিস্ফোরণের পর বারবার প্রশ্ন ওঠে—এটি বাজি নাকি অন্য কিছু? যেমন নৈহাটিতে বিস্ফোরণ হয়েছিল, বর্ধমানে বিস্ফোরণ হয়েছিল, কিন্তু কতজন গ্রেফতার হয়েছে? কতজন সাজা পেয়েছে? কিছুই জানা যায় না। এই ঘটনায় কোনও কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। কিছুদিনের মধ্যে মানুষ ভুলে যায়, আর প্রশাসন চুপ থাকে।”

এদিকে, দিলীপ ঘোষ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই সরকার চাইছে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হোক, যাতে ভোটের আগে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ভোট দিতে না পারে। রাজ্যে শান্তিতে থাকার দিন শেষ হয়ে গেছে। আমরা কেন্দ্রীয় এজেন্সির হস্তক্ষেপ চাই। কেন এই ধরনের বাজি কারখানা প্রত্যন্ত এলাকাতে চালানো হচ্ছে, যেখানে এই ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশি?”

অপরদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী বঙ্কিম হাজরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বিজেপি নেতাদের দাবি, সরকার চায় তথ্য লোপাট হয়ে যাক এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসুক।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে, দিলীপ ঘোষ আরও বলেন, “আমরা জানি না কিসের লাইসেন্স ছিল এই বিস্ফোরক তৈরির জন্য। এটা তদন্ত হওয়া উচিত। প্রশাসন যদি সেখানে যায়, তবে সরকার তাদের যেতে দেবে না। কারণ সরকার চায় সমস্ত তথ্য গোপন হয়ে যাক এবং ভোটের আগেই দাঙ্গার পরিবেশ তৈরি হোক।”

এখন দেখার বিষয় হল, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ নিয়ে রাজ্য সরকার কি পদক্ষেপ নেয় এবং কেন্দ্রীয় সরকার এর তদন্তে কী ভূমিকা পালন করবে।