পশ্চিম মেদিনীপুরে হিন্দু সন্ন্যাসীর উপর হামলা! ঘটনার চরম নিন্দা করে যা বললেন “শুভেন্দু?

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুরের ধরমপুর গ্রামে হিন্দু সন্ন্যাসী হিরন্ময় গোস্বামী মহারাজের উপর ভয়াবহ হামলার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩১ মার্চ রাতে সন্ন্যাসী হিরন্ময় গোস্বামী মহারাজ যখন দৈনন্দিন নিয়ম অনুযায়ী ভগবত কীর্তন শেষে প্রসাদ গ্রহণ করে বাইরে হাঁটছিলেন, তখন দুজন দুষ্কৃতী অতর্কিতভাবে তাঁর ওপর আক্রমণ করে। হামলাকারীরা সন্ন্যাসীর গলায় দড়ি দিয়ে ফাঁস দেয়, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং তাঁর জটা কেটে নেয়। বর্তমানে মহারাজ ঘাটাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই ঘটনার পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে লিখেন, “বাংলাদেশের মতো এপার বাংলাতেও সনাতন ধর্মের মানুষের ধর্মাচরণের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গও আজ জেহাদিদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছে।” তিনি হিরন্ময় গোস্বামী মহারাজের ওপর হামলাকে “নিন্দনীয়” বলে অভিহিত করেন এবং এই ঘটনায় প্রশাসনের তীব্র নিন্দা জানান।
শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “বাংলাদেশের চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুর উদাহরণ টেনে বলতে চাই, ওপারে প্রভু চিন্ময় আর এপারে প্রভু হিরন্ময়। বাংলাদেশের ইউনুস সরকার যেমন বিনা অপরাধে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুকে মিথ্যে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় চার মাস ধরে জেলে রেখেছে, তেমনই এপার বাংলায় সন্ন্যাসীদের ওপর হামলা হচ্ছে।”
এই হামলার পর, শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনের কাছে সন্ন্যাসী হিরন্ময় গোস্বামী মহারাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তবে, ঘটনাটি রাজ্যে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উত্থাপন করেছে।
এই হামলার ঘটনাটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা এবং সংখ্যালঘু দুষ্কৃতীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত অপরাধীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয় এবং সন্ন্যাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।