আমি শুধু হিন্দু নই, —সব ধর্মের”, অক্সফোর্ড বিতর্ক নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া মমতার

পবিত্র ইদ-উল-ফিতরের দিনে সম্প্রীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ, সোমবার রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষের সঙ্গে রেড রোডে ইদের বিশেষ প্রার্থনায় অংশ নেন তিনি। সেখান থেকে শুধু সম্প্রীতি রক্ষার ডাকই নয়, অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে ঘটে যাওয়া বিতর্কিত ঘটনাতেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মমতা।

সম্প্রতি লন্ডন সফরে গিয়ে অক্সফোর্ডের কেলগ কলেজে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি হিন্দু কিনা। সেই প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন,
“ওরা জানতে চেয়েছিল আমি হিন্দু কিনা। আমি পরিষ্কার বলেছি, আমি শুধু হিন্দু নই, মুসলিম, শিখ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের।”

তিনি আরও বলেন, যারা শুধুমাত্র বিভাজনের রাজনীতি করতে চায়, তারা সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে। কিন্তু বাংলা বরাবরই ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির কেন্দ্রবিন্দু, যা তিনি সবসময় রক্ষা করবেন।

কিছুদিন আগেই লন্ডনে ‘নারী ক্ষমতায়ন’ বিষয়ক এক আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একাধিক বিষয়ে, বিশেষ করে টাটা প্রকল্প, আরজি কর হাসপাতাল ইস্যুতে তাঁকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে জানা যায়, এই বিতর্কিত প্রশ্নগুলোর পেছনে এসএফআই-এর লন্ডন ইউনিটের হাত রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়।

ইদের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,
“একদল ধর্মের নামে ব্যবসা করে। কিন্তু সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে। কোনও প্ররোচনায় পা দেওয়া যাবে না।”

শুধু বিজেপিই নয়, বামেদেরও একহাত নেন তিনি। তার মতে, এখন লাল ও গেরুয়া একসঙ্গে মিশে গেছে। তবে বাংলার সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেবেন না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।

তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও এদিন সর্বধর্ম সমন্বয়ের বার্তা দেন। তিনি বলেন,
“চাঁদের কোনও ধর্ম হয় না। আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত একতা বজায় রাখতে হবে। সবাইকে মিলেমিশে থাকতে হবে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্প্রীতির বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন, বাংলায় বিভেদমূলক রাজনীতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।