“কাউকেই ছাড়তে চাই না”-একই মণ্ডপে একসঙ্গে দুই তরুণীকে বিয়ে করলেন প্রেমিক

তেলেঙ্গানা রাজ্যে এক ব্যতিক্রমী ও বিরল বিবাহ অনুষ্ঠান সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। কোমারাম ভীম আসিফাবাদ জেলার বাসিন্দা সূর্যদেব নামের এক ব্যক্তি একই মণ্ডপে লাল দেবী ও ঝলকারি দেবী নামের তার দুই প্রেমিকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছেন।

সূর্যদেব জানিয়েছেন, তিনি একই সময়ে এই দুই নারীর সঙ্গে গভীর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। দুজনের প্রতিই তার সমান অনুভূতি থাকায় তিনি কাউকেই হারাতে চাননি। এই কারণেই তিনি একই মণ্ডপে এবং একই অনুষ্ঠানে তাদের দুজনকে একসঙ্গে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিঙ্গাপুর মণ্ডলের গুমনুর গ্রামের বাসিন্দা সূর্যদেবের সঙ্গে প্রথমে লাল দেবীর এবং পরবর্তীতে ঝলকারি দেবীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে তিনি দু’জনকেই জীবনসঙ্গী করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। এমনকি তাদের বিয়ের জন্য যে আমন্ত্রণপত্র ছাপানো হয়েছিল, সেখানেও কনে হিসেবে লাল দেবী ও ঝলকারি দেবী উভয়ের নাম স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছিল।

বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বিয়ের পোশাকে সজ্জিত দুই নারী হাসিমুখে একজন পুরুষের (সূর্যদেব) হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুদের উপস্থিতিতে তারা তিনজন বিয়ের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছেন। ভিডিওতে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজও শোনা যাচ্ছে। জানা গেছে, বর ও দুই কনের পরিবারের পূর্ণ সম্মতিতে এই বিবাহের আয়োজন করা হয়েছিল।

সূর্যদেব জানিয়েছেন, একই সঙ্গে দুই নারীর প্রেমে পড়ার পর তারা তিনজন মিলেই একসঙ্গে জীবন কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা এই unconventional সম্পর্কে আপত্তি জানালেও, পরবর্তীতে তারা বিষয়টি মেনে নেন এবং তাদের বিবাহ সম্পন্ন করতে সর্বাত্মক সহায়তা করেন।

উল্লেখ্য, ভারতে এই ধরনের ঘটনা একেবারে নতুন নয়। এর আগেও ২০২১ সালে তেলেঙ্গানার আদিলাবাদ জেলায় এক ব্যক্তি একই মণ্ডপে দুই নারীকে বিয়ে করেছিলেন, যেখানে তিন পরিবারেরই সম্মতি ছিল। এছাড়াও, ২০২২ সালে ঝাড়খণ্ড রাজ্যেও একই ধরনের একটি ঘটনা ঘটেছিল।

তবে, এই বিয়ে আইনি জটিলতা সৃষ্টি করেছে। ভারতীয় আইন অনুযায়ী, হিন্দুদের মধ্যে বহুবিবাহ স্পষ্টত নিষিদ্ধ। সূর্যদেবের এই বিবাহ ভারতীয় আইনের চোখে অবৈধ হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং এর ফলস্বরূপ তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার বিষয়, এই ব্যতিক্রমী বিবাহ আইনি পরিণতি পর্যন্ত কতদূর গড়ায়।