“১২ মিনিটের মধ্যে দু’বার তীব্র কম্পন”-মায়ানমারের সাথে মাটি কাঁপল কলকাতাতেও

শুক্রবার সকালে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল মায়ানমার। এর প্রভাবে কলকাতা, দিল্লি, অসম-সহ উত্তর-পূর্ব ভারত এবং প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে ব্যাংককেও তীব্র কম্পন অনুভূত হয়েছে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭.২, যা ভারতীয় সময় সকাল ১১:৫০ মিনিটে ১০ কিলোমিটার গভীরতায় আঘাত হানে। এর কেন্দ্রস্থল ছিল মায়ানমারের ২১.৯৩° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৬.০৭° পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এর কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি দুপুর ১২:০২ মিনিটে আঘাত হানে, যার তীব্রতা ছিল ৭।
ভূমিকম্পের তীব্রতা ও প্রভাব
ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই প্রবল ছিল যে মায়ানমারের মান্দালয়ের ঐতিহাসিক আভা সেতু ইরাবতী নদীতে ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি বড় বাড়িও ধসে পড়েছে। ব্যাংককে কম্পনের জেরে মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দিল্লি-এনসিআর এবং কলকাতায়ও বাসিন্দারা কম্পন অনুভব করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহত বা বড় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পের কারণ
বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে সাতটি টেকটোনিক প্লেট ক্রমাগত গতিশীল। এই প্লেটগুলি যখন একে অপরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, ধাক্কা খায়, একটির ওপর আরেকটি উঠে যায় বা দূরে সরে যায়, তখন ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। মায়ানমার এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ভারতীয় প্লেট, সুন্দা প্লেট এবং বার্মা প্লেটের সংঘর্ষ ঘটে। এই ভূ-তাত্ত্বিক কারণেই এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ।
রিখটার স্কেলে পরিমাপ
ভূমিকম্পের তীব্রতা পরিমাপের জন্য রিখটার ম্যাগনিটিউড স্কেল ব্যবহৃত হয়, যা ১ থেকে ৯ পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্কেলে কেন্দ্রস্থল বা উপকেন্দ্র থেকে নির্গত শক্তির মাত্রা পরিমাপ করা হয়। রিখটার স্কেলে ১ মানে কম তীব্রতার কম্পন, আর ৯ মানে সর্বোচ্চ তীব্রতার ধ্বংসাত্মক তরঙ্গ। ৭ তীব্রতার ভূমিকম্প কেন্দ্রস্থলের ৪০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে শক্তিশালী কম্পন সৃষ্টি করে, যা ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
মায়ানমারে ক্ষয়ক্ষতি
মান্দালয়ের আভা সেতু ভেঙে পড়া এবং বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার খবরে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছে। ভারত ও ব্যাংককেও কম্পন অনুভূত হলেও সেখানে বড় ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
ভূ-বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, মায়ানমারের সাগাইং ফল্ট এবং সুন্দা মেগাথ্রাস্টের মতো সক্রিয় ভূ-তাত্ত্বিক অঞ্চল এই ভূমিকম্পের জন্য দায়ী। এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতেও ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তাঁরা। তবে কবে এবং কী তীব্রতায় তা ঘটবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়।
এই ভূমিকম্পের পর ভারত ও মায়ানমারের স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।