“ভুল চিকিৎসার মাশুল”-ভুয়ো ডাক্তারের চিকিৎসায় আঙুল বাদ তরুণীর, গ্রেফতার অভিযুক্ত

ভুল চিকিৎসার কারণে এক তরুণীকে হারাতে হয়েছিল বাঁ হাতের একটি আঙুল। প্রায় দেড় বছর আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন অভিযুক্ত ভুয়ো চিকিৎসক প্রমথরঞ্জন মণ্ডল। নিমতা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর, যখন নিমতার ইটখোলা আশ্রম রোড নারায়ণপল্লির বাসিন্দা ভুবনেশ্বর সরকারের মেয়ে সায়নী সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হয়েছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত
সায়নীর বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে গভীর ক্ষত হয়েছিল। তাঁর বাবা ভুবনেশ্বর তাঁকে স্থানীয় চিকিৎসক প্রমথরঞ্জন মণ্ডলের কাছে নিয়ে যান। প্রমথরঞ্জন আঙুলে সেলাই করে দেন। কিন্তু অভিযোগ, ১৫ দিন পর সেলাই খোলার সময় দেখা যায় সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ভুবনেশ্বর মেয়েকে অন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ততদিনে আঙুলে পচন ধরে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা জানান, আঙুলটি বাঁচানো সম্ভব নয় এবং দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেন। একাধিক চিকিৎসকের মতামত নেওয়ার পর অবশেষে সায়নীর ওই আঙুলটি কেটে বাদ দিতে হয়।
ভুয়ো চিকিৎসকের পরিচয় উন্মোচন
পরিবার পরে খোঁজখবর করে জানতে পারে, প্রমথরঞ্জন মণ্ডলের শিক্ষাগত যোগ্যতা চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত নয়। এমনকি তিনি যে রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করতেন, তা অন্য একজন চিকিৎসকের নামে নথিভুক্ত। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ২০২৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর ভুবনেশ্বর সরকার নিমতা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ দেড় বছরের অপেক্ষার পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভুবনেশ্বরের প্রতিক্রিয়া
ভুবনেশ্বর সরকার বলেন, “আমি গরিব মানুষ। পোশাকের দোকানে কাজ করে সংসার চালাই। ভেবেছিলাম টাকার জোরে ওই ভুয়ো ডাক্তার হয়তো পার পেয়ে যাবে। কিন্তু নিমতা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন আশা করছি, আমার মেয়ের জন্য বিচার পাব।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় তাঁর পরিবার গভীরভাবে আঘাত পেয়েছে।
গ্রেপ্তারে দেরির কারণ
নিমতা থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ দায়েরের পর স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে প্রমথরঞ্জনের বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সেই রিপোর্ট এসে পৌঁছেছে। রিপোর্টে স্পষ্ট হয়েছে যে, তিনি কোনও বৈধ রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আইনি প্রক্রিয়া মেনে তদন্ত করেছি। প্রমাণ পাওয়ার পরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।”
সমাজে প্রভাব
এই ঘটনা নিমতা এলাকায় ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে সতর্কতার সংকেত তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা তাঁদের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর ভরসা কমিয়ে দিয়েছে। অনেকে দাবি করেছেন, এ ধরনের ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
আইনি পথে এগোচ্ছে মামলা
প্রমথরঞ্জন মণ্ডলের গ্রেপ্তারির পর মামলাটি এখন আদালতের বিচারাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে আরও তথ্য প্রকাশ্যে আসতে পারে। ভুবনেশ্বর সরকারের পরিবার এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়। এই ঘটনা ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা ফের তুলে ধরেছে।