ধর্ষণে দোষী আসারামের আশ্রমেই অলিম্পিক ভিলেজ? শুরু হলো ২০৩৬-এর তোড়জোড়

ভারতে ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গুজরাত সরকার আহমেদাবাদে আসারাম বাপুর আশ্রমের জমি অধিগ্রহণের পরিকল্পনা করছে। আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা আসারাম বাপু বর্তমানে ধর্ষণের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। সূত্রের খবর, সরকারি কর্মকর্তারা আশ্রম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জন্য জমির প্রয়োজন
আসারাম আশ্রমসহ তিনটি আশ্রম সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল স্পোর্টস এনক্লেভের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। সরকারের লক্ষ্য এই জমি অধিগ্রহণ করে একটি অত্যাধুনিক স্পোর্টস কমপ্লেক্স, অলিম্পিক ভিলেজ এবং অন্যান্য খেলার সুবিধা তৈরি করা। এই পরিকল্পিত প্রকল্পটি নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামের আশপাশে প্রায় ৬৫০ একর জমির ওপর গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পে ভাট ও কোটেশ্বর এলাকাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অবৈধ দখলের অভিযোগ
এই এলাকায় পুরনো বহু ভবনের পাশাপাশি তিনটি আশ্রম—আসারাম আশ্রম, ভারতীয় সেবা সমাজ এবং সদাশিব প্রজ্ঞা মণ্ডল—অবস্থিত। এই আশ্রমগুলির বিরুদ্ধে পূর্বে সরকারি জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ উঠেছিল। সরকার এখন এই জমি পুনরুদ্ধার করে অলিম্পিকের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে চায়।
আশ্রমের প্রতিক্রিয়া
আসারাম আশ্রমের মুখপাত্র নীলম দুবে জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের পর তারা জমির মালিকানার দলিলপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এই বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা আইনি প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।”
ভারতের অলিম্পিক স্বপ্ন
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত জানুয়ারিতে ঘোষণা করেছেন, “ভারত ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনের জন্য সমস্ত সম্পদ ব্যবহার করে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এটি ভারতীয় ক্রীড়াকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।” এর অংশ হিসেবে ভারতীয় অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (IOA) গত অক্টোবরে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (IOC) কাছে একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ জমা দিয়েছে। আহমেদাবাদকে প্রধান আয়োজক শহর হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা
২০২৮ সালে অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে এবং ২০৩২ সালে অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। IOC-এর প্রেসিডেন্ট থমাস বাখ জানিয়েছেন, ২০৩৬ অলিম্পিক আয়োজনে আগ্রহী শহরের সংখ্যা দশটিরও বেশি। ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে সৌদি আরব, কাতার, পোল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ রয়েছে। IOC-এর পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ২০২৬ সালে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সরকারি পরিকল্পনা
গুজরাত সরকারের একটি তিন সদস্যের কমিটি—আহমেদাবাদ মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, জেলা কালেক্টর এবং আহমেদাবাদ আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (AUDA) প্রধান নিয়ে গঠিত—জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সরকারি সূত্র জানায়, আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে অলিম্পিকের প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা হবে।
আসারাম বাপুর আশ্রমের জমি অধিগ্রহণের এই পরিকল্পনা ভারতের অলিম্পিক স্বপ্নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আহমেদাবাদকে বিশ্বমানের ক্রীড়া কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার এই প্রয়াস সফল হলে, ভারত আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নতুন মাইলফলক স্থাপন করতে পারবে।