আমাদের মধ্যে ‘ইমোশনাল রিলেশন’ আছে? লন্ডনে মমতার মন্তব্যে চটলেন সুজন! বললেন-“রাজ্যকে ছোট…”

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কেলগ কলেজে যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখনই দর্শকাসনের একাংশ থেকে ছুটে আসে একগুচ্ছ প্রশ্ন। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিলেও, তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে—এটি পরিকল্পিত ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল মুখ্যমন্ত্রীকে বিদেশের মাটিতে অপদস্থ করা। তৃণমূলের অভিযোগ, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে বাংলার সম্মানহানি করা হয়েছে।

তবে এবার মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তুললেন সিপিআই(এম) নেতা সুজন চক্রবর্তী। তাঁর বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সম্পর্কে ভুল তথ্য প্রচার করছেন এবং ব্রিটিশ শাসনের প্রতি অকারণ প্রশংসা করছেন।”

লন্ডন সফরের অংশ হিসেবে কেলগ কলেজ ছাড়াও শিল্প ও বাণিজ্য সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, “আমি ইউকে-কে ভালোবাসি। কারণ আমাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ও আবেগঘন সম্পর্ক রয়েছে। ব্রিটিশরা ভারতে ১৯০ বছর শাসন করেছে, তখন কলকাতা ছিল দেশের রাজধানী। আপনারা এখানে অনেক হেরিটেজ বিল্ডিং তৈরি করেছেন, যা আমাদের ইতিহাসের অংশ। আমরা সবসময় আপনাদের কথা মনে করি। তাই, আসুন, বাংলায় বিনিয়োগ করুন।”

এই বক্তব্য নিয়েই আপত্তি তুলেছেন সুজন চক্রবর্তী। তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখা হয়েছে, “নিজেকে বড় করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যকে ছোট করছেন। ব্রিটিশদের ১৯০ বছরের শাসন লুঠতরাজ এবং পরাধীনতার প্রতীক। এ নিয়ে আবেগতাড়িত হয় কেবল আরএসএস ও তাদের অনুগামীরা।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুজন চক্রবর্তী কৌশলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরএসএস ও বিজেপির সঙ্গে একাসনে বসানোর চেষ্টা করেছেন, যা অতীতেও বামপন্থীরা করে এসেছে। কারণ, একসময় মমতা বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক রেখেছিলেন।

এদিকে, কেলগ কলেজে বিক্ষোভ নিয়ে তৃণমূলের একের পর এক প্রতিক্রিয়া আসছে। এখন দেখার বিষয়, সুজন চক্রবর্তীর এই মন্তব্যের পাল্টা জবাব শাসকদল কীভাবে দেয়।