“যে হিন্দুরা ভোট দিতে যান না…?”-সনাতনী ভোট ৮-১০ শতাংশ বাড়ানো লক্ষ্য শুভেন্দু অধিকারীর

২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির আসন সংখ্যা ১৮ থেকে ১২-তে নেমে গেলেও, দলটি প্রায় ৩৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্বের দাবি, এই ভোটে সংখ্যালঘুদের অংশ নেই। বরং হিন্দু, তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের সমর্থনেই এই ফল এসেছে। এই ভোটের ওপর ভর করে আরও ৮-১০ শতাংশ বাড়তি ভোট নিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক জনসভায় তিনি এই পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।

শুভেন্দুর অঙ্ক ও পরিকল্পনা

শুভেন্দু বলেন, “আমরা হিন্দু ও জনজাতি মিলিয়ে ৪০ শতাংশ ভোট পাচ্ছি। যে হিন্দুরা ভোট দিতে যান না, তাঁরা যদি বাড়ি থেকে বেরোন, আর ৮-১০ শতাংশ সনাতনি হিন্দু ভোটার ভোট দেন, তাহলে তৃণমূলকে উড়িয়ে দেব।” তিনি দাবি করেন, এই বাড়তি ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় ‘পরিবেশ’ তৈরি করবে বিজেপি। তাঁর ভাষণে কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তার ইঙ্গিতও ছিল। তিনি বলেন, “নিশ্চিন্তে থাকুন, পরিবেশ আমরা তৈরি করে দেব। যাঁদের জেলে দেখতে চান, তাঁরা জেলে যাবেন। কেষ্ট তিহার থেকে ঘুরে এসে ভদ্র হয়ে গেছে। বালু এখন আড়ালে খেলছে। মমতা বলছেন, ‘স্পিড বাড়াও, গেল আমার সব।’”

শুভেন্দু বাম ও কংগ্রেসের ভোটেও হাত দিতে চান। তিনি বলেন, “ওদের ভোট দেওয়া মানে ভোট নষ্ট করা।” তিনি সমর্থকদের রামনবমীতে বড় মিছিল করার নির্দেশ দেন এবং ‘ধর্মরক্ষা কমিটি’ নামে নতুন কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় প্রতি মাসে জেলা কর্মসূচির ঘোষণাও করেন তিনি।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

তৃণমূল এই সমীকরণকে ‘বিভাজনের রাজনীতি’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “বিজেপির হাতে এখনও ৪০ শতাংশ ভোট আছে, শুভেন্দু তা কী করে জানলেন? ২০২৬-এ দেখবেন, ওদের ভোট ২৪ শতাংশে নেমে যাবে। এই ভয়েই উনি ধর্মভিত্তিক বিভাজনের চেষ্টা করছেন। বাংলার মানুষ তা গ্রহণ করবে না।”

পুলিশ-প্রশাসনের ওপর ক্ষোভ

গত সপ্তাহে বারুইপুরে শুভেন্দুর গাড়ি আক্রান্ত হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার প্রতিবাদে হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে এদিন ফের সভা করেন তিনি। পুলিশ-প্রশাসনকে নিশানা করে বলেন, “পলাশ ঢালির মতো আইপিএস-দের পায়ে বেড়ি লাগাতে হবে। গাড়িতে ২০টা লাঠির বাড়ি পড়েছিল। রসিদ গুছিয়ে রেখেছি। ৬ শতাংশ সুদ-সহ পলাশের থেকে আদায় করব।”

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

২০২৪-এ তৃণমূল ২৯টি লোকসভা আসন পেলেও, বিজেপি ভোট শতাংশে পিছিয়ে নেই। শুভেন্দু মনে করেন, হিন্দু ও জনজাতি ভোট আরও সংগঠিত করলে ২০২৬-এ তৃণমূলকে হারানো সম্ভব। তবে তৃণমূলের দাবি, বাংলার জনতা ধর্মীয় বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করবে। আগামী দিনে এই দুই শিবিরের লড়াই বাংলার রাজনীতিকে নতুন মোড় দেবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।