OMG! স্ত্রীকে খুন করে দেহ স্যুটকেসে ভরল স্বামী, ফোন করে জানাল শ্বশুরবাড়িতে, গ্রেফতার অভিযুক্ত

স্ত্রীকে খুন করে দেহ ব্যাগে ভরে পালানোর ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম রাকেশ, মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। বেঙ্গালুরু পুলিশ কল ডিটেল রেকর্ড (CDR) ট্র্যাক করে পুণে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেফতার করে। খুনের পর রাকেশ স্ত্রীর বাবা-মাকে ফোন করে নিজেই হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন।
কল করে স্বীকারোক্তি, তারপর পলায়ন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাকেশ খুনের পর গৌরী অনিল সাম্বেকরের (৩২) বাবা-মাকে ফোন করে বলেন, “আমি গৌরীকে খুন করেছি।” গৌরী মাস কমিউনিকেশনে পড়াশোনা করেছিলেন, আর রাকেশ হিতাচি-তে প্রোজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্বচ্ছল ও শিক্ষিত পরিবারের এই দম্পতি গত দুই মাস ধরে বেঙ্গালুরুর হুলিমাভু থানার অধীন দোড্ডাকান্নাহাল্লি এলাকায় বসবাস করছিলেন। পুলিশ জানায়, রাকেশ ও গৌরীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত, যা এই নৃশংস ঘটনার কারণ হতে পারে।
ঝগড়ার জেরে নৃশংস হত্যা
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ২৬ মার্চ রাতে রাকেশ ও গৌরীর মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় রাকেশ গৌরীর পেটে ছুরি মেরে এবং গলা কেটে তাঁকে খুন করেন। এরপর দেহটি একটি ব্যাগে ভরে বাথরুমে রেখে তিনি পুণের উদ্দেশে পালিয়ে যান।
পুলিশি তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
দক্ষিণ-পূর্ব বেঙ্গালুরুর ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (DCP) সারা ফাতিমা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশে একটি ফোন আসে। ফোনে জানানো হয়, বেঙ্গালুরুর একটি বাড়িতে আত্মহত্যা হয়েছে। তিনি বলেন, “হুলিমাভু থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে বাথরুমে একটি বড় ব্যাগ দেখতে পায়। ফরেন্সিক টিম ব্যাগটি খুলতেই গৌরীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।”
CDR ট্র্যাক করে গ্রেফতার
পুলিশ রাকেশের মোবাইল ফোনের CDR ট্র্যাক করে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে। পুণে পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। হুলিমাভু থানার তদন্তকারী দল রাকেশকে পুণে থেকে বেঙ্গালুরুতে নিয়ে আসে। DCP সারা ফাতিমা জানান, “অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের পর খুনের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
দেহ অক্ষত, তদন্ত চলছে
DCP জানিয়েছেন, গৌরীর দেহ অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় দেহ কেটে টুকরো করা হয়, কিন্তু এ ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেনি। তিনি বলেন, “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।” পুলিশ এখন খুনের পিছনের মূল উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
সমাপ্তি: এই ঘটনা বেঙ্গালুরুতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষিত ও স্বচ্ছল পরিবারে এমন নৃশংসতা প্রশ্ন তুলেছে সম্পর্কের ভিত্তি ও মানসিক চাপ নিয়ে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে সকলের।