বিশেষ: পদ্ম, তুলসী সহ মোট ৭ টি গাছকে কেন পবিত্র মনে করা হয়? জেনেনিন কি সেই কারণ?

বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে কিছু গাছ ও উদ্ভিদকে পবিত্র মানা হয়। এই গাছগুলোর আধ্যাত্মিক, ওষধি এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব শতাব্দী ধরে চলে আসছে। কিন্তু আধুনিক যুগে এদের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কি একই রয়ে গেছে? পবিত্র বলে বিবেচিত সাতটি গাছের অতীত ও বর্তমান বিশ্লেষণে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।
পদ্ম: পবিত্রতার প্রতীক
প্রাচ্যের ধর্মে, বিশেষ করে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মে, পদ্ম ফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে। কাদার মধ্যে জন্ম নিয়েও জলের ওপর ভেসে থাকা এই ফুল জীবন, পবিত্রতা ও নির্লিপ্ততার প্রতীক। হিন্দু ধর্মে এটি আত্মার পবিত্রতার সঙ্গে তুলনা করা হয়। আজও মন্দিরে ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে পদ্মের ব্যবহার অব্যাহত, তবে শহুরে জীবনে এর প্রতীকী গুরুত্ব কিছুটা কমেছে।
মিসলটো: জাদুকরী ক্ষমতার বিশ্বাস
প্রাচীন কেল্টিক ধর্মে মিসলটোকে সূর্যদেবতা টারানিসের সঙ্গে যুক্ত করা হতো। শীতকালে ওক গাছ থেকে সোনার কাস্তে দিয়ে এটি সংগ্রহ করা হতো। বিশ্বাস করা হতো, এটি রোগ নিরাময়, বিষ প্রতিরোধ ও উর্বরতা বাড়াতে সক্ষম। আজ ক্রিসমাসে এটি সজ্জার অংশ হলেও, এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব অনেকটাই হারিয়েছে। বিজ্ঞান বলছে, মিসলটো বিষাক্ত, যা পুরনো বিশ্বাসের বিপরীত।
পেয়টে: আধ্যাত্মিক মাদকতা
টেক্সাস ও মেক্সিকোর মরুভূমির এই ক্যাকটাসটি আদিবাসী গোষ্ঠীদের কাছে পবিত্র। হুইকোল ইন্ডিয়ানরা এটিকে ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম মনে করতো। এর মাদক গুণের জন্য ১৯৫০-এর দশকে শিল্পী ও লেখকদের কাছেও জনপ্রিয় হয়। আজও কিছু গোষ্ঠী এটি ব্যবহার করে, তবে আইনি নিষেধাজ্ঞার কারণে এর প্রভাব সীমিত।
তুলসী: ধর্ম ও চিকিৎসার সঙ্গী
হিন্দু ধর্মে তুলসী গাছ অত্যন্ত পবিত্র। বৃন্দাবনের মাটির সঙ্গে যুক্ত এই গাছ প্রতিদিনের পূজায় ব্যবহৃত হয়। এর ওষধি গুণও স্বীকৃত। আধুনিক যুগে তুলসীর চিকিৎসাগত ব্যবহার বেড়েছে, তবে শহরে এর ধর্মীয় গুরুত্ব কিছুটা ম্লান হয়েছে।
ইয়ু: পুনর্জন্মের প্রতীক
ইয়ু গাছ হাজার বছর বেঁচে থাকতে পারে এবং ভাঙা ডাল থেকেও নতুন গাছ জন্মায়। খ্রিস্টানদের কাছে এটি অনন্ত জীবনের প্রতীক। আদিবাসী গোষ্ঠীও এটিকে পূজা করতো। আজ চার্চের পাশে এটি দেখা গেলেও, এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য অনেকটাই প্রতীকী হয়ে গেছে।
গাজা: রাস্তাফারি বিশ্বাস
রাস্তাফারি ধর্মে গাজাকে ‘পবিত্র ভেষজ’ বলা হয়। তারা বিশ্বাস করে, এটি বাইবেলে উল্লিখিত ‘জীবনের গাছ’। এটি আধ্যাত্মিক শক্তি বাড়ায় বলে মনে করা হয়। আজও এই গোষ্ঠী এটি ব্যবহার করে, তবে আইনি বাধার কারণে এর প্রভাব সীমিত।
পুদিনা: খ্রিস্টান পবিত্রতা
অর্থোডক্স খ্রিস্টান ও গ্রীক চার্চে পুদিনা পাতা পবিত্র। বিশ্বাস, যিশুর রক্তপাতের স্থানে এটি জন্মেছে। পবিত্র জল পরিশোধনে ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এটি ব্যবহৃত হয়। আজও এর ব্যবহার আছে, তবে সাধারণ জীবনে এটি খাদ্যের স্বাদ বাড়াতেই বেশি পরিচিত।
অতীত ও বর্তমান
অতীতে এই গাছগুলো ধর্ম, ওষুধ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। আজ আধুনিকতা ও বিজ্ঞানের প্রভাবে এদের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব কমলেও, কিছু সম্প্রদায়ে এদের প্রতি শ্রদ্ধা অটুট। তবে, শহুরে জীবনে এগুলো বেশিরভাগই প্রতীকী বা ব্যবহারিক কাজে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।
সূত্র: বিবিসির ‘সামথিং আন্ডারস্টুড’ অনুষ্ঠানে জাহ্নবী হ্যারিসনের বক্তব্য