“ঘুষি মেরে বেশ করেছি, ও যা নোংরামি করেছে তাতে এটাই প্রাপ্য”- শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে কলকাতার একটি গ্রামে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি এক যুবকের অশালীন আচরণের শিকার হন। তাকে দেখতে ও ছুঁতে উৎসুক জনতার ভিড়ের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ভিড় সামলাতে বাঁশ দিয়ে রাস্তা ঘিরে দেওয়া হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। শ্রাবন্তীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করার চেষ্টার প্রতিবাদে তিনি যুবকটিকে চড় ও ঘুষি মেরে সকলকে চমকে দেন।
ঘটনার বিবরণ
ভিডিওতে দেখা যায়, শ্রাবন্তী মঞ্চের দিকে হেঁটে যাচ্ছেন। নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ঘিরে রেখেছিলেন, কিন্তু ভিড়ের মধ্যে এক যুবক হঠাৎ হাত বাড়িয়ে তাকে অশোভনভাবে ছুঁতে চেষ্টা করে। তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে শ্রাবন্তী যুবকটির দিকে তেড়ে যান এবং তাকে চড় ও ঘুষি মারেন। রেগে গিয়ে তিনি যুবকটিকে উদ্দেশ্য করে কিছু কথাও বলেন। এই ঘটনা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার জন্ম দেয়।
শ্রাবন্তীর বক্তব্য
এই ঘটনা প্রসঙ্গে শ্রাবন্তী জানান, এটি দুই মাস আগে আসামে একটি অনুষ্ঠানে ঘটেছিল। শীতের সময় তিনি সেখানে একটি শো’তে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “ব্যবস্থাপনা একেবারেই ভালো ছিল না। রাত হয়ে গিয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষী থাকলেও তা পর্যাপ্ত ছিল না। হঠাৎ ভিড় থেকে একটা হাত আমার দিকে এগিয়ে আসে। অশ্লীলভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করে। আমার হাত বুকের কাছে ছিল, নইলে ওর উদ্দেশ্য কী ছিল তা সবাই বুঝতে পারছেন। সে মুহূর্তে আর কিছু মাথায় ছিল না। হাতটা ধরে চড়-ঘুষি মেরে দিই। কী করব বলুন! তারকা পরে, আগে তো আমি একজন মেয়ে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাকে পাঁচটা মানুষ চেনেন। আমার সঙ্গে যদি এমনটা ঘটতে পারে, তবে সাধারণ মেয়েদের কত অসুবিধের মধ্যে যেতে হয়, ভেবে দেখুন। ওই কারণেই প্রতিবাদটা দরকার। অসভ্যতা করলে পাল্টা মারো, যেমনটা আমি করেছি। ও যা নোংরামি করেছে, তাতে এটাই প্রাপ্য।”
তারকাদের সমর্থন
এই ঘটনার পর শ্রাবন্তীর প্রতিবাদের ধরনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেক তারকা। তারা মনে করেন, ভক্তদের উৎসাহ বা কাছ থেকে দেখার ইচ্ছা থাকতে পারে, কিন্তু তা যদি সীমা ছাড়িয়ে অসভ্যতায় রূপ নেয়, তবে প্রতিবাদ করা জরুরি। অতীতেও মঞ্চে হেনস্থার শিকার হয়েছেন অনেক অভিনেত্রী। শ্রাবন্তীর এই পদক্ষেপকে তারা একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
View this post on Instagram
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
এই ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির দিকেও আঙুল তুলেছে। শ্রাবন্তী জানান, নিরাপত্তারক্ষী সংখ্যায় কম থাকায় ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে তারকাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আয়োজকদের দায়িত্ব। শ্রাবন্তীর এই অভিজ্ঞতা অন্যান্য তারকাদের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমাজে আলোড়ন
শ্রাবন্তীর এই প্রতিবাদ সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকে মনে করছেন, তারকা হলেও তিনি প্রথমে একজন নারী, এবং তার এই সাহসী পদক্ষেপ নারীদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা। ভাইরাল ভিডিওটি শুধু বিনোদনই নয়, সমাজে নারী নিরাপত্তার প্রশ্নও তুলে ধরেছে।