কাশ্মীরের সঙ্গে জুড়বে গোটা দেশ, চালু হচ্ছে নতুন বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, পরিষেবা কবে থেকে?

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কাশ্মীর উপত্যকা দেশের বাকি অংশের সঙ্গে রেল যোগাযোগে যুক্ত হতে চলেছে। আগামী ১৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কাটরা থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত প্রথম ট্রেন পরিষেবার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক উদ্বোধনী ট্রেনটি হবে একটি বিশেষ বন্দে ভারত এক্সপ্রেস, যা কাশ্মীরের রেল যুগের সূচনা করবে।

চেনাব সেতু পরিদর্শন ও জনসভা

এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্বের সর্বোচ্চ রেল সেতু চেনাব সেতু পরিদর্শন করবেন। এই সেতু কাশ্মীরের রেল যোগাযোগ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিদর্শনের পর তিনি কাটরায় একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন। এই অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং, জম্মু ও কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা সহ শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

ট্রেন পরিষেবার পরিকল্পনা

প্রাথমিকভাবে, বন্দে ভারত এক্সপ্রেস কাটরা থেকে শ্রীনগর এবং বারামুল্লার মধ্যে চলাচল করবে। আগস্ট মাস থেকে জম্মু রেলওয়ে স্টেশনের সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে, এই ট্রেন জম্মু থেকে শ্রীনগর/বারামুল্লা পর্যন্ত যাত্রা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, দিল্লি থেকে শ্রীনগর পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন পরিষেবা চালুর বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

এই রেল সংযোগ কাশ্মীরের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পর্যটন শিল্প এর মাধ্যমে নতুন গতি পাবে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেল যোগাযোগ কাশ্মীরকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সংযুক্ত করবে এবং অঞ্চলটির সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত

কাশ্মীর উপত্যকায় রেল পরিষেবার সূচনা শুধু একটি যোগাযোগ ব্যবস্থার শুরু নয়, বরং এটি অঞ্চলটির জন্য একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। চেনাব সেতুর মতো অবকাঠামোগত বিস্ময় এবং বন্দে ভারতের মতো আধুনিক ট্রেনের সমন্বয়ে এই প্রকল্প ভারতের উন্নয়ন যাত্রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

১৯ এপ্রিলের এই উদ্বোধনের জন্য কাশ্মীরবাসী উৎসাহের সঙ্গে অপেক্ষা করছেন। এই রেল সংযোগের মাধ্যমে কাশ্মীরের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনা দেশের কাছে আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করা হচ্ছে।