BigNews: পাইকারি বাজারে হানা, বাজেয়াপ্ত করা হলো ২০ লক্ষ টাকার ওষুধ

প্রথমে গঞ্জ, তারপর মফস্বল, এখন খোদ কলকাতায় জাল ওষুধের কারবার। রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের সাম্প্রতিক অভিযানে কলকাতার পাইকারি ওষুধ বাজারে উদ্ধার হয়েছে সন্দেহজনক ওষুধ। গত মঙ্গলবার বাগরি মার্কেট, গান্ধী মার্কেট ও মেহতা বিল্ডিংসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ওষুধ জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।
কীভাবে চালানো হয় জাল ওষুধের কারবার?
ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, আসল ওষুধের বাক্সের মধ্যেই মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে নকল ওষুধ। একটি ১০ পাতার ওষুধের প্যাকেটে ৭-৮টি আসল ওষুধের পাশাপাশি ২-৩টি নকল ওষুধ রাখা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা সহজেই প্রতারিত হচ্ছেন। জাল ওষুধের তালিকায় রয়েছে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ওষুধসহ বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ও হাঁপানির ওষুধ।
কীভাবে চিনবেন জাল ওষুধ?
ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের পরামর্শ:
- ওষুধ কেনার সময় ক্যাশ মেমো নিন এবং ব্যাচ নম্বর যাচাই করুন
- কিউআর কোড স্ক্যান করে ওষুধের সত্যতা যাচাই করুন
- শুধুমাত্র লাইসেন্সপ্রাপ্ত ডিলার বা ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনুন
গত কয়েক মাসের জাল ওষুধের ঘটনা
- ২১ ফেব্রুয়ারি: হাওড়ার আমতায় মান্না এজেন্সির গুদাম থেকে ১৭ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ উদ্ধার
- টিটাগড়, আগরপাড়া, নাগেরবাজারে: নামী সংস্থার হৃদরোগের জাল ওষুধের সন্ধান
- বুধবার: উল্টোডাঙার একটি বেসরকারি হাসপাতালে জাল অ্যালবুমিন ইঞ্জেকশন উদ্ধার
স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও কর্তৃপক্ষের সতর্কতা
জাল ওষুধ সেবনে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের ডিরেক্টর বলেছেন, “জাল ওষুধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। উৎপাদন থেকে বিতরণ – সব স্তরেই কঠোর নজরদারি চলবে।”
পরবর্তী পদক্ষেপ
জব্দ করা ওষুধগুলো পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বেশিরভাগই জাল। তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সতর্ক থাকুন, সচেতন হোন: জাল ওষুধ কিনে প্রতারিত হলে অবিলম্বে ড্রাগ কন্ট্রোল বিভাগের হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন।