ভারত-চিন আরও কাছাকাছি? এবার দুই দেশে সরাসরি বিমান চালুর তোড়জোড় হলো শুরু

ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে। পাঁচ বছরের বিরতির পর, যা কোভিড-১৯ মহামারি এবং ২০২০ সালের সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে সৃষ্ট, দুই দেশের সম্পর্কে বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছে। কলকাতায় নিযুক্ত চিনা কনসাল জেনারেল জু ওয়েই মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মহামারির আগে বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংজু এবং কুনমিং থেকে নয়াদিল্লি, মুম্বই, কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরে প্রতি সপ্তাহে ৫০টি সরাসরি ফ্লাইট চলত। বর্তমানে উভয় পক্ষ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই পরিষেবা পুনরায় চালু করতে কাজ করছে।”
এই ঘোষণার সূত্রপাত হয়েছিল চলতি বছরের জানুয়ারিতে, যখন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্ত্রি চিন সফর করেন। সফরের পর ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, “উভয় দেশ নীতিগতভাবে সরাসরি বিমান পরিষেবা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছে।” এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার এবং পুনর্নির্মাণের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সম্পর্কের ‘বসন্ত’ আসছে
জু ওয়েই দুই দেশের সম্পর্কের প্রতি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আরেক সপ্তাহ পর, ১ এপ্রিল, চিন ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের দিন। আমরা এই বছর যৌথভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করব। চিন-ভারত সম্পর্কের বসন্ত আসছে দেখে আমরা আনন্দিত।” তিনি আরও বলেন, “এই বার্ষিকীকে আমরা একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চাই—অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করে এবং সম্পর্ককে সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।”
ওয়েইয়ের মতে, এই উদ্যোগ শুধু বিমান চলাচল পুনরায় শুরু নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর একটি পদক্ষেপ। সূত্রের খবর, চিনা কর্তৃপক্ষ আশা করছে ভারত চিনা নাগরিকদের জন্য ভিসা নীতিতে শিথিলতা আনবে, যা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
পটভূমি ও তাৎপর্য
২০২০ সালের প্রথম দিকে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ভারত ও চিনের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের ফলে সম্পর্কে তিক্ততা সৃষ্টি হয়, যা ফ্লাইট পুনরায় চালু করার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তোলে। তবে, গত অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের রাশিয়ায় বৈঠকের পর থেকে সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ২৭ জানুয়ারি, দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিমান পরিষেবা পুনরায় শুরুর বিষয়ে সম্মতি প্রকাশ করে।
মহামারির আগে ভারতীয় বিমান সংস্থা যেমন এয়ার ইন্ডিয়া ও ইন্ডিগো এবং চিনা সংস্থা যেমন চায়না সাউদার্ন ও চায়না ইস্টার্ন নিয়মিত সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করত। বর্তমানে, যাত্রীদের হংকং, সিঙ্গাপুর বা দুবাইয়ের মতো হাবের মাধ্যমে যাতায়াত করতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, ২০২৫ সালে কৈলাস-মানসরোবর যাত্রা পুনরায় শুরুর জন্যও আলোচনা চলছে, যা সম্পর্কের আরও উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তবে, বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে পারস্পরিক বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সীমান্ত বিরোধের সমাধান না হলে সম্পূর্ণ সহযোগিতা চ্যালেঞ্জিং থাকবে।
চিন-ভারত সম্পর্কের এই নতুন অধ্যায় কীভাবে এগিয়ে যায়, তা নির্ভর করছে আগামী দিনের আলোচনা ও পারস্পরিক সিদ্ধান্তের উপর। ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া ৭৫তম বার্ষিকীর উদযাপন এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।