রাজ্যসভায় অতীতের গোপন কথা ফাঁস করলেন ধনখড়, লজ্জায় জিভ কাটলেন দোলা সেন

বর্তমানে দেশের উপ রাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়। একসময় তিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল। সেই সময় রাজ্যের শাসনভার ছিল তৃণমূলের হাতে, যা এখনও অব্যাহত। আর তৃণমূলের অন্যতম দৃঢ়প্রতাপ নেত্রী দোলা সেন। সময়ের পরিক্রমায় একসময়ের বিরোধিতা আজ এক মজার সমাপতনে এসে ঠেকেছে— রাজ্যসভার চেয়ারম্যান পদে বসেছেন ধনখড়, আর সেই উচ্চকক্ষেরই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দোলা সেন।
রাজ্যপাল থাকাকালীন দোলা সেনকে সামলাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল ধনখড়কে। আজও সংসদে বিভিন্ন বিষয়ে সরব হতে দেখা যায় দোলাকে। তবে আজকের দিনটা ছিল একটু অন্যরকম।
বুধবার ছিল দোলা সেনের জন্মদিন। রীতি মেনে, রাজ্যসভার চেয়ারম্যান হিসেবে ধনখড় তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। পাশাপাশি দোলার শিক্ষাগত যোগ্যতা, রাজনৈতিক জীবন, শ্রমিক আন্দোলনে তাঁর অবদান— এসব নিয়েও প্রশংসা করেন। দোলা হাসিমুখে সব শুনছিলেন, মাঝে মাঝে হাতজোড় করে সৌজন্যও দেখাচ্ছিলেন।
তবে সবচেয়ে মনোরঞ্জক মুহূর্তটি আসে যখন ধনখড় এক পুরনো স্মৃতি শেয়ার করেন। তিনি বলেন—”একদিন রাজভবনে দোলা সেন দেখা করতে এসেছিলেন। বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা। দোলার কণ্ঠস্বর বরাবরই হাই ডেসিবেলে থাকে। আমি যখন দোলার সঙ্গে কথা বলছিলাম, তখন তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা আচমকাই উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এমনকি একজন ভেতরে ঢুকে দেখতে এসেছিলেন, আমি ঠিক আছি কি না!”
সাংসদদের হাসির রোলের মাঝে ধনখড় যোগ করেন—”ভাবুন তো, ভবিতব্য কোথায় নিয়ে এল! আমি আবার এখানেই (রাজ্যসভায়) বসেছি!”
এই গল্প শুনে শাসক-বিরোধী সব সাংসদ একসঙ্গে হেসে ওঠেন। দোলা সেন নিজেও মজা পেয়ে জিভ কেটে ফেলেন। সংসদের গম্ভীর পরিবেশ কিছুটা হালকা হয়ে যায় ধনখড়ের কথায়।
শুধু সংসদীয় রাজনীতিই নয়, পথে-প্রতিবাদেও দোলা সেন চিরকালই প্রথম সারির নেতা। বিশেষ করে শ্রমিক অধিকারের লড়াইয়ে তিনি বরাবরই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সময়ের চাকা ঘুরে যায়, কিন্তু সম্পর্কের হাস্যরস মাঝে মাঝে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকেও এক মঞ্চে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়।