এসএসকেএম-এর জলাশয়ে নোংরা আবর্জনার ছড়াছড়ি! ডেঙ্গু আতঙ্কের আশঙ্কা

কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের মেয়র-পারিষদ অতীন ঘোষ রাজ্যের একাধিক অব্যবহৃত জমি ও জলাশয়ে আবর্জনা জমে থাকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেএমডিএ, পূর্ত দফতর-এর মতো সরকারি সংস্থার ফাঁকা জমিগুলো সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় সেখানে ময়লা-আবর্জনা জমছে, যা ডেঙ্গু-মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে।
এসএসকেএম হাসপাতালের জলাশয়ে নোংরার ছড়াছড়ি
শহরের অন্যতম প্রধান হাসপাতাল এসএসকেএম-এর সংলগ্ন জলাশয়ে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেডিকেল অফিসার ও ভেক্টর কন্ট্রোল কর্মকর্তাদের মতে, এখানে জমে থাকা নোংরা জল মশার বংশবিস্তারের আদর্শ স্থান হয়ে উঠছে, যা ডেঙ্গু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
৯ নং বরোর এক বৈঠকে ৮২ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর পাপিয়া সিং ও ব্লক সভাপতি বাবলু সিং সরব হন এই ইস্যুতে। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালের আশেপাশে রোগীদের আত্মীয়রা নিয়মিত ময়লা ফেলছেন, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
পুরসভার তরফে প্রতিশ্রুতি, কিন্তু কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ
অতীন ঘোষ বিষয়টিকে “গুরুতর” বলে স্বীকার করে মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক-কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, অব্যবহৃত জমিগুলো পরিদর্শন করে সেগুলোকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৩ সালে কলকাতায় ১৩ হাজার ডেঙ্গু কেস রিপোর্ট হলেও ২০২৪ সালে সংখ্যাটি কমে ১,৩০০-তে নেমে এসেছে। তবে, বর্ষার আগেই মশক নিধন ও জলাবদ্ধতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের তাগিদ দেন তিনি।
দীর্ঘস্থায়ী সমাধান চাই স্থানীয়রা
স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, শুধু বৈঠক বা প্রতিশ্রুতিতে সমস্যার সমাধান হবে না। সরকারি জমিগুলো দ্রুত পরিষ্কার করে সেখানে পর্যাপ্ত নজরদারি বাড়ানো না হলে ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়ার মতো রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
পুরসভার পক্ষ থেকে মশা নির্মূল অভিযান, স্বাস্থ্য শিবির ও জল নিকাশি ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বলা হলেও, স্থানীয়দের দাবি—“কাগজে-কলমে নয়, কাজে দেখাতে হবে।”