সাড়ে ৩ মাস আগে আত্মহত্যা ছাত্রের! ফোন করে বকেয়া ফি চাইল স্কুল, প্রশাসনের দ্বারস্থ বাবা মা

এক হৃদয়বিদারক ঘটনায় বর্ধমানের এক বেসরকারি স্কুল মৃত ছাত্রের পরিবারকে বকেয়া ফি মেটানোর জন্য ফোন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের এই আচরণে স্তম্ভিত ছাত্রের বাবা-মা। ইতিমধ্যেই তাঁরা জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

১৩ বছরের ওই ছাত্র সপ্তম শ্রেণির পড়ুয়া ছিল। প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে, গত ডিসেম্বরে, তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। তবে তার মৃত্যু ঘিরে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। পরিবারের দাবি, মাত্র তিন ফুট উচ্চতায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল তাকে, হাঁটু মাটিতে ঠেকানো ছিল, যা আত্মহত্যার সন্দেহ উসকে দেয়। তাদের মতে, অনলাইন গেমের ফাঁদেই প্রাণ হারিয়েছে ছেলেটি। এমনকি, পুলিশ প্রশাসনও এই ঘটনায় সাহায্য করেনি বলে অভিযোগ।

এই শোক এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি পরিবার। অথচ, এর মধ্যেই সম্প্রতি স্কুল কর্তৃপক্ষ তাঁদের ফোন করে বকেয়া ফি মেটানোর দাবি জানায়। ফলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ছাত্রের বাবা-মা। তাঁদের বক্তব্য, “যে সন্তানকে হারিয়েছি, তার স্কুলের কাছ থেকে একটু সহানুভূতি তো আশা করেছিলাম!”

ছাত্রের বাবা-মা পেশায় শিক্ষক। তাঁদের আরও অভিযোগ, ছেলের মৃত্যুর পর স্কুল একবারও তাঁদের খোঁজ নেয়নি, শোকপ্রস্তাবও জানায়নি। অথচ এখন বেতন চাইছে!

বিতর্ক শুরু হতেই স্কুল কর্তৃপক্ষ দায় এড়ানোর চেষ্টা করেছে। স্কুলের অধ্যক্ষ জানিয়েছেন, “আমাদের সফটওয়্যারে বকেয়া ফি থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিফিকেশন আসে। সেই তথ্য দেখে একজন কর্মী ভুলবশত ছাত্রের বাবা-মাকে ফোন করেছিলেন। পরে বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা ক্ষমা চেয়েছি।”

তবে, মৃত ছাত্রের বাবা-মা স্কুলের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। এ প্রসঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলা শাসক (শিক্ষা) প্রতীক সিংহ বলেছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চাইব।”