অস্ট্রেলিয়ার সংসদে মরা মাছ নিয়ে আইনপ্রণেতার প্রতিবাদ, জেনেনিন কেন?

অস্ট্রেলিয়ার সংসদে সিনেট অধিবেশনে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গ্রিনস পার্টির সিনেটর সারাহ হ্যানসন-ইয়াং একটি মৃত স্যামন মাছ হাতে ঝুলিয়ে ধরে সরকারের প্রস্তাবিত স্যামন খামার সুরক্ষা আইনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাসমানিয়া রাজ্যের বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত ম্যাককুয়ারি হারবারে বিতর্কিত এই খামার সুরক্ষা আইনের বিরোধিতা করতে তিনি এই অভিনব পদক্ষেপ নেন।
বর্তমানে সিনেটে এই আইন সংক্রান্ত বিল নিয়ে বিতর্ক চলছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের সরকারের শেষ সময়ে, মে মাসে জাতীয় নির্বাচনের আগে এই বিলটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) পার্লামেন্টের প্রশ্নোত্তর পর্বে সিনেটর সারাহ হ্যানসন-ইয়াং বিলটির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বাণিজ্যিক স্যামন খামারের কারণে সৃষ্ট পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যর্থ হয়েছে।
এ সময় তিনি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো একটি গোটা মৃত স্যামন মাছ উঁচিয়ে ধরে পরিবেশ মন্ত্রীর প্রতিনিধিত্বকারী লেবার সিনেটর জেনি ম্যাকঅ্যালিস্টারের উদ্দেশে বলেন, “নির্বাচনের আগে কি আপনারা এই পচা, দুর্গন্ধযুক্ত স্যামনের জন্য আপনাদের পরিবেশ রক্ষার শংসাপত্র বিক্রি করে দিয়েছেন?” এই ঘটনার পর সিনেটের সভাপতি সু লাইনস তাকে অবিলম্বে মাছটি কক্ষ থেকে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।
জবাবে সিনেটর ম্যাকঅ্যালিস্টার কটাক্ষ করে বলেন, “আমি মনে করি, অস্ট্রেলিয়ানরা তাদের জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে এমন চমকবাজির (স্টান্ট) চেয়ে আরও দায়িত্বশীল আচরণ আশা করেন।” ঘটনাটি সিনেটে হাস্যরস ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে।
প্রস্তাবিত আইনের বিষয়বস্তু
সরকারের প্রস্তাবিত এই আইন তাসমানিয়ার পশ্চিম উপকূলে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত ম্যাককুয়ারি হারবারে স্যামন চাষের খামারগুলোর নিশ্চয়তা দেবে এবং জনগণের আইনি চ্যালেঞ্জের সুযোগ কমিয়ে দেবে। অ্যালবানিজের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি জানিয়েছে, তাসমানিয়ার স্যামন শিল্পে কর্মসংস্থান রক্ষায় এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। তাদের দাবি, এই আইন শ্রমিকদের জীবিকা নিশ্চিত করবে।
পরিবেশবাদীদের উদ্বেগ
অন্যদিকে, পরিবেশবাদী সংগঠন ও গ্রিন পার্টি এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, স্যামন চাষ থেকে উৎপন্ন পুষ্টি ও রাসায়নিক দূষণ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে। বিশেষ করে বিরল মজিয়ান স্কেট প্রজাতির মাছ, যা শুধুমাত্র তাসমানিয়ার ম্যাককুয়ারি ও বাথার্স্ট হারবারে পাওয়া যায়, তা বিলুপ্তির পথে চলে যেতে পারে। পরিবেশ গ্রুপগুলোর মতে, এই আইন পরিবেশ সুরক্ষা আইনকে দুর্বল করবে।
বিতর্কের পটভূমি
সিনেটর সারাহ হ্যানসন-ইয়াংয়ের এই প্রতিবাদ অস্ট্রেলিয়ার পরিবেশ নীতি ও শিল্প স্বার্থের মধ্যে চলমান দ্বন্দ্বকে সামনে এনেছে। তাসমানিয়ার স্যামন শিল্প গত কয়েক বছরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি এই অঞ্চলে মাছের গণমৃত্যু এবং সমুদ্র সৈকতে মাছের তৈলাক্ত অংশ ভেসে আসার ঘটনা পরিবেশবাদীদের উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিলটি পাস হলে এটি পরিবেশ আইনের সংস্কারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা থাকায় এটি শীঘ্রই আইনে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স