“আমি স্নান করছিলাম…”- ক্লাস নাইনের ছাত্রীর নগ্ন ছবি তুলে গ্রেফতার হলেন প্রতিবেশী যুবক

বাড়িতে পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এক নবম শ্রেণির ছাত্রীর স্নানরত অবস্থার ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবেশী রেজাউল শেখ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে বারুইপুর থানার পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি সম্পন্ন হয়।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ আগে বারুইপুর থানার অন্তর্গত একটি এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রীর বাবা-মা বারুইপুর স্টেশনের কাছে ফল বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। এই সুযোগে প্রতিবেশী রেজাউল শেখ গোপনে ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি তুলে নেয় এবং পরবর্তীতে তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। ছবি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

হুমকির অভিযোগ

নাবালিকার পরিবার জানিয়েছে, ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর রেজাউল শেখ তাদের ভয় দেখায়। কাউকে কিছু জানালে গুরুতর পরিণতির হুমকি দেওয়া হয়। এই হুমকির কারণে ছাত্রীটি প্রথমে পুলিশের কাছে অভিযোগ জানাতে ভয় পায়। তবে পরিবারের সদস্যদের উৎসাহে মঙ্গলবার রাতে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে রেজাউল শেখকে গ্রেফতার করে। তার মোবাইল ফোনে ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং পকসো (POCSO) আইনের অধীনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

পরিবারের প্রতিক্রিয়া

ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, এই ঘটনার জেরে নাবালিকাটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তারা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি করেছে। এক পরিবারের সদস্য বলেন, “আমাদের মেয়েটির জীবন নষ্ট করে দিয়েছে এই ঘটনা। আমরা চাই দোষী কঠিন শাস্তি পাক।”

পুলিশের তদন্ত

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের মোবাইল ফোন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবি মুছে ফেলার জন্য প্রযুক্তি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করছি। দোষীকে কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”

সমাজে প্রতিক্রিয়া

এই ঘটনা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজের জন্য লজ্জাজনক এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ঘটনাটি নাবালিকাদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

পুলিশ তদন্তে আরও কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের। বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।