“স্পেশাল ২৬” অনুকরণে চিনার পার্কে ডাকাতি, সিআইএসএফের ৫ জওয়ান গ্রেফতার

কলকাতার চিনার পার্কে একটি আবাসনে আয়কর দফতরের আধিকারিক সেজে এক দৃষ্টিকটু ডাকাতি ঘটানো হয়, যা একেবারে সিনেমার “স্পেশাল ২৬” ছবির মতোই। তবে এখানে রিলে নয়, রিয়েলে ঘটেছে এই ঘটনা, যেখানে ডাকাতরা সরকারি অফিসারের ছদ্মবেশে এক প্রোমোটারের বাড়িতে হানা দিয়ে প্রায় ২৫ ভরি সোনা এবং ৩০ লক্ষ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, ওই বাড়িতে থাকতেন আরপি সিং নামের একজন প্রোমোটার, যিনি কয়েক বছর আগে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার স্ত্রী ও মেয়ে একসাথে বাড়িতে থাকতেন। অভিযোগ, গত ১৭ মার্চ আয়কর দফতরের আধিকারিক সেজে একদল অপরাধী আরপি সিংয়ের বাড়িতে ঢুকে ঘরের লোকজনকে ভয় দেখিয়ে আলমারি ও সিন্দুক খুলে টাকা এবং সোনা নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের অভিযুক্তদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২৫ ভরি সোনা এবং ৩০ লক্ষ টাকা।

বাগুইআটি থানায় অভিযোগ ও তদন্ত
এই ঘটনার পর, প্রয়াত প্রোমোটারের স্ত্রী বাগুইআটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে বাগুইআটি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে, যার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ এবং বিধাননগর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত চালায়। তদন্তে পুলিশ দুটি সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে এবং পরে ফরাক্কা থেকে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করে।

সিআইএসএফের ৫ জওয়ান গ্রেফতার
ঘটনার তদন্তে পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে পাঁচজন সেন্ট্রাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিকিউরিটি ফোর্স (CISF)-এর জওয়ান ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন, অমিত কুমার সিং, সিআইএসএফের সিনিয়র ইনস্পেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদের মধ্যে কনস্টেবল লক্ষ্মী কুমারী চৌধুরী, বিমল থাপা, হেড কনস্টেবল রামু সরোজ, এবং জনার্দন সাউও গ্রেফতার হয়েছে।

সূত্র জানায়, কনস্টেবল লক্ষ্মী কুমারী চৌধুরী একসময় আরজি হাসপাতালে নিরাপত্তা দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশের বক্তব্য
বিধাননগর কমিশনারেটের একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, “এরা সিআইএসএফের সদস্য হলেও তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকা অত্যন্ত গুরুতর ব্যাপার, এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, যে কোনও ক্ষেত্রে দায়িত্বজ্ঞানহীনতা এবং অপব্যবহার যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা সর্বজনীন। সিআইএসএফের জওয়ানরা যখন এমন একটি অপরাধে জড়িত, তখন তাদের সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ
এখন পুলিশ এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সিআইএসএফের এই জওয়ানদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে তারা অভিযোগ প্রমাণ হলে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করবে।

চিনার পার্কে ঘটে যাওয়া এই ডাকাতির ঘটনা শুধু এক দুর্ধর্ষ চক্রান্তের প্রতিফলনই নয়, বরং এটি সমাজে বিশ্বাসের অভাব এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার এক মূর্ত প্রতীক।