আত্মহত্যার আগে ভিডিয়ো রেকর্ডে অভিযোগ, সঞ্জীব জৈনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দিল্লির মোহন ভারসনের

দিল্লির কৈলাশ নগরের এক বাসিন্দা মোহন ভারসনে আত্মহত্যার আগে একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দিয়েছেন তার পরিবার এবং সমাজকে। এই ভিডিয়োতে তিনি অভিযোগ করেছেন, ফাইনান্সার সঞ্জীব জৈন তাকে ব্যাপকভাবে প্রতারণা করেছেন এবং তার মান-সম্মান ক্ষুণ্ণ করার হুমকি দিয়েছেন। মোহন ভারসনের দাবি, ২০১৪ সালে সঞ্জীব জৈনের কাছ থেকে তিনি ৫০ হাজার টাকা ধার করেছিলেন, তবে সেই টাকা পরিশোধ করতে করতেই সঞ্জীব তাকে আরও বড় অঙ্কের টাকা দাবি করতে শুরু করেন।
ফাইনান্সারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ
মোহন ভারসন মৃত্যুর আগে রেকর্ড করা ভিডিয়োতে বলেন, “২০১৪ সালে আমি সঞ্জীব জৈনের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম, কিন্তু সেই টাকা পরিশোধ করতে করতেই তিনি নতুন করে আরও ১০ লক্ষ টাকা দাবি করতে শুরু করেন। বহু বছর ধরে আমি টাকা মিটিয়েছি, কিন্তু সে কখনোই আমার টাকা গ্রহণ করছে না, বরং আমাকে নতুন নতুন অজুহাতে চাপ দিচ্ছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে সঞ্জীব জৈন তাকে মিথ্যে অভিযোগে ঘেরাও করছেন এবং যদি তিনি ১০ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে না পারেন, তাহলে সঞ্জীব তার বাড়িতে এসে চিৎকার-চেঁচামেচি করবেন বলে জানিয়েছেন। মোহন বলেন, “এটা যদি ঘটে, তাহলে আমার আর কোনো সম্মান থাকবে না। আমি অপমানিত হব। আর আমি এই অপমান সহ্য করতে পারব না। তাই এই চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হলাম।”
আত্মহত্যার কারণ হিসেবে সঞ্জীবের হুমকি
মোহন ভারসন বলেন, “আমি কখনো কারও ক্ষতি করিনি, কাউকে প্রতারণা করিনি। কিন্তু সঞ্জীব জৈন আমাকে ছাড়লেন না। তার আচরণ এবং মিথ্যে দাবির কারণে আমার জীবন আর সহ্য করার মতো ছিল না।” তিনি আরও বলেন, “যদি সঞ্জীব জৈন আমার সামনে এসে চিৎকার করেন, তাহলে আমি আর বাঁচতে পারব না।” মোহন ভারসনের এই ভয়াবহ সিদ্ধান্তের পর তার পরিবার এবং প্রতিবেশীরা গভীর শোকের মধ্যে পড়েছেন।
পরিবারের অভিযোগ এবং আইনগত পদক্ষেপ
মোহনের পরিবারের সদস্যরা এখন সঞ্জীব জৈনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কথা ভাবছেন। মোহনের স্ত্রী জানিয়েছেন, “আমরা বিশ্বাস করি সঞ্জীব জৈনের কারণেই আমার স্বামী এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন। তার অসংখ্য প্রতারণার কারণে আমরা এখন আইনি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।”
দিল্লি পুলিশে অভিযোগ
দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তারা মৃতের পরিবারের অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং সঞ্জীব জৈনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করা হবে এবং যদি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।
মোহন ভারসনের আত্মহত্যার ঘটনা শুধু তার পরিবারের জন্য নয়, বরং দিল্লির সমাজের জন্যও একটি বড় শোকের মুহূর্ত। এমনকি এটি ঋণ এবং আর্থিক প্রতারণার নৈরাজ্যকেও সামনে নিয়ে এসেছে, যা সমাজে আরও বড় প্রশ্ন তুলছে।