যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইফতার পার্টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজা, সরস্বতী পুজো নিয়ে বিজেপির প্রশ্ন

মার্চ মাসের শুরুতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলন নিয়ে উত্তাল হয়েছিল ক্যাম্পাস। এবার সেখানে ইফতার পার্টি আয়োজন নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইফতার পার্টি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন এবং সরস্বতী পুজোর আয়োজন নিষিদ্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে রাজনৈতিক তরজা উসকে দিয়েছেন।
ইফতার পার্টি নিয়ে সুকান্তের বিস্ফোরক মন্তব্য
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছরই ওএটি (ওপেন এয়ার থিয়েটার) এলাকায় ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এবার সেখানকার একটি ভিডিও শেয়ার করে সুকান্ত মজুমদার বাম এবং তৃণমূলকে একযোগে নিশানা করেন। মঙ্গলবার রাতে নিজের এক্স (পূর্বে টুইটার) হ্যান্ডেলে তিনি সেই ভিডিও শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “এটাই লিব্যারাল বামপন্থীদের মুক্তচিন্তার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র যাদবপুর! যেখানে সরস্বতী পুজো হলে ধর্মীয় মেরুকরণের অভিযোগ ওঠে, কিন্তু এসব কেবল ধর্মনিরপেক্ষতা।”
বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ও সমালোচনা
ভিডিও শেয়ার করে সুকান্ত আরও লেখেন, “সম্প্রতি বাংলাদেশকে দেখে অনুপ্রাণিত হওয়া তৃণমূলপন্থীদের কাছেও বাড়তি অক্সিজেন! সনাতন হিন্দু বিরোধী মতাদর্শ অক্ষুণ্ণ রেখে বাম-তৃণমূল অজৈব জোটের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে দেবী সরস্বতীর প্রবেশ নিষিদ্ধ, কিন্তু এসব নিয়ে মুখে কুলুপ!” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ইফতার পার্টি সেক্যুলার এবং সরস্বতী পুজো সাম্প্রদায়িক? পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতি বোঝা উচিত।”
সুকান্ত মজুমদারের আরও এক ভিডিও পোস্ট
বুধবার আবারও সুকান্ত মজুমদার এই ইস্যুতে সরব হন এবং আরও একটি ভিডিও শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বলেন, “যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সরস্বতী পুজো হতে দেওয়া হয় না। তখন যুক্তি দেওয়া হয়, এই অনুষ্ঠান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হওয়া উচিত নয়, কারণ এটি সেকুলার টেক্সচার বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা রক্ষা করে।” তিনি আরও বলেন, “বামপন্থী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভণ্ডামি দেখে বাঙালি জনগণ সচেতন হোক।”
বিজেপির রাজ্য সভাপতির তীব্র আক্রমণ
সুকান্ত মজুমদার দাবি করেন, “এখানে দু’জনের মধ্যে কোনো শত্রুতা নেই, এরা একসঙ্গে হয়। সব সিউডো সেকুলাররা এক হয়ে ইফতার পার্টি আয়োজন করছে। ইফতার পার্টি সেক্যুলার, আর সরস্বতী পুজো সাম্প্রদায়িক?” তিনি বিজেপির পক্ষ থেকে সরস্বতী পুজো বন্ধ করার নীতির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, “এরা ইসলামিকরণ ও জেহাদিকরণ করছে, কমিউনিজমের সঙ্গে এদের কোনো সম্পর্ক নেই।”
বাঙালির কাছে ডাবল স্ট্যান্ডার্ডের প্রমাণ
নিজের বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে সুকান্ত মজুমদার ক্যাপশনে লেখেন, “আমাদের ইফতারে কোনো বাধা নেই, কিন্তু কেন ইফতার হলে সরস্বতী পুজো আটকানো হয়? ইফতার পার্টি সেক্যুলার এবং শিক্ষাঙ্গনে সরস্বতী পূজা চূড়ান্ত সাম্প্রদায়িক? আপনাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ড নীতির প্রমাণ বাঙালির কাছে স্পষ্ট।”
রাজনৈতিক উত্তেজনা
এই মন্তব্যের পর সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে তৃণমূল কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট নেতারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হচ্ছে। উল্টো দিক থেকে বিজেপির বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গে নতুন করে ধর্মীয় মেরুকরণ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এখন দেখার বিষয়, এই বিতর্ক ভবিষ্যতে কীভাবে ভারতের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আঙিনায় প্রভাব ফেলবে।