পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর: কেন্দ্রীয় হারে DA পাওয়ার সম্ভাবনা, সুপ্রিম কোর্টে পরবর্তী শুনানি ২২ এপ্রিল

দীর্ঘ বছর পর কেন্দ্রীয় হারে ডিএ (ডিয়ারেন্স অ্যালাউন্স) পাওয়ার আশায় বুক বাঁধছেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মীরা। গতকাল সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি হয়েছিল, তবে কোর্টের তরফে রায় ঘোষণা না হলেও মামলাকারী সংগঠন আশাবাদী, আগামী ২২ এপ্রিল পরবর্তী শুনানিতে রায় আসতে পারে। এই রায়ের পরেই কর্মীদের বকেয়া ডিএ পাওয়ার সম্ভাবনা আরও দৃঢ় হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

বকেয়া DA বিষয়ক পশ্চিমবঙ্গের সুপ্রিম কোর্টের শুনানি

গতকাল, ২৫ মার্চ, সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার শুনানি ছিল। রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, এই বিষয়ে আরও সময় প্রয়োজন এবং কর্মীদের আইনজীবীও কিছু সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে, কোর্ট আগামী ২২ এপ্রিল ২০২৫-এ পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেছে। এই দিনেই কিছু বড় সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা।

ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা ও রাজ্য সরকারের নতুন সুখবর

এদিকে, রাজ্যের সরকারি কর্মীদের জন্য আরও একটি সুখবর এসেছে। রাজ্য বাজেটে অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ঘোষণা করেছেন, ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা ৪% ডিএ বৃদ্ধি পাবেন। অর্থাৎ, আগামী এপ্রিল থেকে কর্মীরা ডিএ বৃদ্ধি পেয়ে আরও কিছুটা বেশি আর্থিক সুবিধা পাবেন।

সিকিম সরকারের কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বৃদ্ধি

পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য সিকিমেও কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। সিকিমের কর্মীরা আগে ৫০% হারে ডিএ পেতেন, কিন্তু নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, তাদের ডিএ বৃদ্ধি পেয়ে ৫৩% হবে, যা কেন্দ্রীয় হারের সমান। এই ঘোষণায় সিকিমের সরকারি কর্মীরা অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।

পশ্চিমবঙ্গের কর্মীদের বকেয়া DA এবং বেতন বৃদ্ধির সম্ভাবনা

এছাড়াও, সিকিম সরকারের পুরনো পে কমিশনের কর্মীদের জন্যও ডিএ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাদের ভাতা ২৩৯% থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২৪৬% হবে এবং পাশাপাশি পেনশনেরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। সিকিমের এই ঘোষণায় রাজ্যের কর্মীদের মধ্যে একটি আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা বর্তমানে ২২ এপ্রিলের পরবর্তী শুনানির দিকে নজর রেখেছেন। যদি সুপ্রিম কোর্ট রাজ্যের কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দেয়, তবে তা একটি বড় পদক্ষেপ হবে। এক্ষেত্রে, সরকারের পক্ষ থেকে কর্মীদের বকেয়া ভাতা দ্রুত মেটানোর নির্দেশ আসতে পারে বলে অনেকেই আশাবাদী।

রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এবং সবাই অপেক্ষা করছেন সুপ্রিম কোর্টের রায় নিয়ে। সেই সঙ্গে, এই ধরনের খবরের আপডেট সবার আগে পাওয়ার জন্য সবাই সংবাদ মাধ্যমে নজর রাখছেন।