ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্রের অভিযোগে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ, দুই আধিকারিককে শো-কজ

সম্প্রতি নবান্নে বারংবার ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র নিয়ে অভিযোগ জমা পড়েছে, যা নিয়ে রাজ্য সরকার তদন্ত শুরু করেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতরের দুই আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, দফতরের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দু’জন আধিকারিককে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, এই অভিযোগের ভিত্তিতে খড়গপুর এবং ব্যারাকপুরে কর্মরত দুই ইন্সপেক্টর ব়্যাঙ্কের অফিসারদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে থেকে রাজ্য সরকারের কাছে খবর আসে যে, জাতিগত প্রমাণপত্রের নামে ভুয়ো শংসাপত্র প্রদান করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়ার পরই অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ দফতর তদন্তে নামে এবং খড়গপুর ও ব্যারাকপুরের দু’জন অফিসারের যোগ থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়।

নবান্নের নির্দেশে বিষয়টি দ্রুত তদন্তে নেওয়া হয় এবং তদন্তে জানা যায়, যে শংসাপত্রগুলি বিতরণ করা হয়েছে, তা প্রায় দু’বছর পুরনো এবং সেগুলি ভুয়ো ছিল। এই ঘটনা চিহ্নিত হওয়ার পর দফতর যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে এবং শো-কজ নোটিশ জারি করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দফতরের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ‘‘রাজ্য সরকারের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। যে কোনও অভিযোগ পেলে, সেই বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই সূত্রে, নবান্নকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে এবং সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

এই ঘটনাটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষণের সুবিধা গ্রহণের জন্য ভুয়ো ওবিসি শংসাপত্র ব্যবহারের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্তত 45 জনের জাতিগত শংসাপত্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং গবেষণার জন্য এগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল। এর পরেই প্রশাসন সতর্ক হয়ে তদন্ত শুরু করে।

রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযোগ এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কোনওরকম দুর্নীতি বা জালিয়াতি বন্ধ করা যায়।