“স্তনে হাত দেওয়া…”-এলাহাবাদ হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে কড়া বার্তা দিলো সুপ্রিম কোর্ট

স্তনে হাত দেওয়া এবং মহিলার পাজামার দড়ি খুলে দেওয়াকে ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টা হিসেবে গণ্য করা যাবে না—এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই বিতর্কিত পর্যবেক্ষণের উপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা গ্রহণ করে জানিয়েছে, হাইকোর্টের এই রায়ে সংবেদনশীলতার অভাব স্পষ্ট। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জবাবও তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপতি বিআর গাভাই এবং জর্জ মাসিহর বেঞ্চ এই রায়ের সমালোচনা করে বলেছে, “আমাদের কষ্ট হচ্ছে যে এই রায় যিনি লিখেছেন, তাঁর সংবেদনশীলতার অভাব রয়েছে। এটা কোনও এক মুহূর্তের ঘটনা নয়। বিচার স্থগিত রাখার চার মাস পর এই পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ফলে এই মন্তব্য ভেবেচিন্তেই করা হয়েছে।” বেঞ্চ আরও জানায়, “এই পর্যায়ে আমরা স্থগিতাদেশ দিতে চাইনি। কিন্তু রায়ের ২১, ২৪ এবং ২৬ অনুচ্ছেদে যে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, তা আইনের মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা অমানবিক। তাই এই পর্যবেক্ষণের উপর স্থগিতাদেশ জারি করা হল।”

মামলার পটভূমি

এই ঘটনার সূত্রপাত উত্তরপ্রদেশের কাসগঞ্জে। ২০২১ সালে এক কিশোরীকে দুই যুবক একটি কালভার্টের নীচে টেনে নিয়ে যায়। অভিযোগ, তারা কিশোরীর বুকে হাত দেয় এবং পাজামার দড়ি খুলে ফেলে। স্থানীয়রা এগিয়ে আসতেই অভিযুক্তরা কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে কিশোরীকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নামে গাড়িতে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

কাসগঞ্জের স্থানীয় আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা হয়। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি এলাহাবাদ হাইকোর্টে পৌঁছয়। সেখানে বিচারপতি রামমনোহর নারায়ণ মিশ্র পর্যবেক্ষণ করেন, “ধর্ষণ বা ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ এখানে খাটে না। নির্যাতিতাকে বিবস্ত্র করা হয়েছে, এমন কোনও সাক্ষ্য সাক্ষীদের বক্তব্যে পাওয়া যায়নি। অভিযুক্তরা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে এটি করেছে, এমন ধারণার পক্ষেও কোনও প্রমাণ মেলেনি।” তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪৫-বি (বিবস্ত্র করার জন্য বলপ্রয়োগ) এবং পকসো আইনের ৯/১০ ধারায় মামলা চালানোর নির্দেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের প্রতিক্রিয়া

এলাহাবাদ হাইকোর্টের এই রায় নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে সুপ্রিম কোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাটি গ্রহণ করে। শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, এই ধরনের পর্যবেক্ষণ নারীদের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাব প্রকাশ করে এবং আইনের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই মামলায় পরবর্তী শুনানির জন্য কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে আদালত।

এই স্থগিতাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্টের কঠোর মনোভাব নারী নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূচনা করেছে।