“আমি তো ৪০ বছরে বিয়ে করেছি, স্বামী ৮ বছরের ছোট ছিল”-ফারহা খান

মাতৃত্বের জন্য আইভিএফ পদ্ধতি নেওয়াকে সমাজে যেভাবে দেখা হয়, তা বদলানো উচিত”— বলিউডের খ্যাতনামা নির্মাতা ও কোরিওগ্রাফার ফারাহ খান সম্প্রতি এই মর্মে সোচ্চার হয়েছেন। একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি নিজের আইভিএফ অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন এবং সামাজিক কুসংস্কারকে চ্যালেঞ্জ জানান।

অভিনেত্রী দেবিনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় এক আলোচনায় ফারাহ বলেন, “আমি ৪০ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলাম, যখন আমার স্বামী শিরীষ কুন্দর আমার থেকে ৮ বছরের ছোট ছিলেন। তখন অনেকেই বলেছিল, এই বিয়ে টিকবে না। কিন্তু আমি কখনও অন্যের মতামত নিয়ে ভাবি না। যারা সমালোচনা করে, তারা আমার জীবন সামলাবে না।”

আইভিএফ নিয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর আহ্বান

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আইভিএফ কোনো লজ্জার বিষয় নয়। এটি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি, যা অনেক দম্পতিকে সন্তানসুখ এনে দিয়েছে। আমাদের সমাজে শুধু নারীকেই দায়ী করা হয়, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাণুর সমস্যাও দায়ী। এটা স্বীকার করতেই হবে।”

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার

ফারাহ খান ও শিরীষ কুন্দর দম্পতি আইভিএফের মাধ্যমেই তিন সন্তানের (সিজার, ডিভা ও অন্যা) জন্ম দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, “৪০-এর পরেও মা হওয়া সম্ভব। আইভিএফ নিয়ে গোপনীয়তা বা লজ্জার কোনো কারণ নেই। আমি গর্বিত যে আমি এই পদ্ধতির সাহায্য নিয়েছি।”

পুরুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান

ফারাহ খান বিশেষভাবে পুরুষদের উদ্দেশ্যে বলেন, “অনেক পুরুষ শুক্রাণুর সমস্যা লুকোতে চান, কারণ তারা সমাজের দৃষ্টিভয়ে ভয় পান। কিন্তু এটা স্বাভাবিক বিষয়। যারা এ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন, আমি তাদের প্রশংসা করি।”

সামাজিক সচেতনতা জরুরি

তিনি সমাজকে একটি বার্তা দেন: “আইভিএফ বা অন্যান্য মেডিকেল পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া দোষের নয়। বরং এগুলো অনেকের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। আমাদের উচিত এই বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং কুসংস্কার দূর করা।”

পরিসংখ্যান: ভারতে প্রতি বছর প্রায় ২.৫ লাখ আইভিএফ সাইকেল সম্পন্ন হয়, তবে এখনও অনেক দম্পতি সামাজিক ভয়ে এই পদ্ধতি নিতে দ্বিধা করেন। ফারাহ খানের মতো সেলেব্রিটিদের এই ধরনের খোলামেলা আলোচনা সামাজিক মনোভাব বদলাতে সাহায্য করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেষ কথা: ফারাহ খানের এই স্পষ্ট বক্তব্য সামাজিক ট্যাবু ভাঙতে এবং মাতৃত্বের বিভিন্ন পথকে স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।