“আমি আমার গায়ের রং নিয়ে গর্বিত” অপমানজনক মন্তব্যের কড়া জবাব দিলেন সারদা মুরলিধর

“কালোকে কেন খারাপ বলা হবে?” – এই প্রশ্ন তুলে সমাজের গভীরে প্রোথিত রঙবৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন কেরলের মুখ্য সচিব সারদা মুরলীধরন। সম্প্রতি তার ত্বকের রঙ নিয়ে করা একটি অপমানজনক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে эмоциональ পোস্ট করে তিনি বলেছেন, “আমি আমার গায়ের রঙ নিয়ে গর্বিত।”

ঘটনার প্রেক্ষাপট

  • একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সারদার নেতৃত্বকে তার স্বামী ভি ভেনুর (সাবেক মুখ্য সচিব) নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা করে বলেছিলেন, “আপনার স্বামীর নেতৃত্ব ছিল সাদার মতো, আর আপনারটা কালোর মতো”
  • এই রঙভিত্তিক তুলনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়
  • সারদা তার ফেসবুক পোস্টে এই ঘটনার জবাব দিয়েছেন

সারদার শৈশব থেকে শিখন

“ছোটবেলায় আমি ফর্সা হয়ে পুনর্জন্ম নেওয়ার প্রার্থনা করতাম। কিন্তু আমার সন্তানরা যখন তাদের গাঢ় ত্বক নিয়ে গর্ব করতে শিখল, তখন আমি বুঝলাম – সৌন্দর্যের সংজ্ঞা সমাজ বদলাতে পারে না”

কেরলের মুখ্য সচিবের মূল বার্তা

  • স্বীকৃতি: “কালোত্ব আমার পরিচয়ের অংশ, আমি এটিকে ভালোবাসি”
  • প্রশ্ন: “কেন আমরা এখনও ত্বকের রঙ দিয়ে মানুষ বিচার করি?”
  • আহ্বান: “সৌন্দর্যের সংকীর্ণ সংজ্ঞা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে”

সামাজিক প্রতিক্রিয়া

  • সমর্থন: নেটিজেনরা #IAmProudToBeDark হ্যাশট্যাগে সারদার পাশে দাঁড়িয়েছেন
  • পরিসংখ্যান: ২০২২ সালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৬৫% ভারতীয় এখনও বিবাহের ক্ষেত্রে ফর্সা ত্বককে প্রাধান্য দেয়
  • বিশেষজ্ঞ মত: “উচ্চপদস্থ নারীদের এমন অভিজ্ঞতা দেখায় রঙবৈষম্য কতটা গভীর” – সমাজবিজ্ঞানী ড. অরুণিমা বসু

কালারিজমের বিরুদ্ধে লড়াই

সারদার এই বক্তব্য নিয়ে বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে কারণ:

  • তিনি কেরলের প্রথম দলিত মহিলা মুখ্য সচিব
  • সরকারি চাকরিতে ৩৪ বছর ধরে রঙভিত্তিক বৈষম্য মোকাবেলা করেছেন
  • তার এই অবস্থান কর্মক্ষেত্রে বৈচিত্র্য নীতির পক্ষে শক্ত যুক্তি