সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সনজীদা খাতুনের মৃত্যু, দুই বাংলার শিল্পী-সাহিত্যিক মহলে শোকের ছায়া

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ড. সনজীদা খাতুন (৯১) আর নেই। মঙ্গলবার ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। তাঁর মৃত্যুতে দুই বাংলার শিল্পী-সাহিত্যিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এক নজরে সনজীদা খাতুন

  • জন্ম: ১৯৩৩, ঢাকা
  • শিক্ষা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা সাহিত্যের অধ্যাপক
  • প্রতিষ্ঠান: ছায়ানটের (১৯৬১) সহ-প্রতিষ্ঠাতা
  • সম্মাননা: একুশে পদক, স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার
  • বিশেষ অবদান:
    • ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ
    • মৌলবাদের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক আন্দোলন
    • নজরুল সংগীত ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রচার

ছায়ানট: একটি বিপ্লবের নাম

১৯৬১ সালে ওয়াহিদুল হকের সঙ্গে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই সাংস্কৃতিক সংগঠন। নামটি নেওয়া হয়েছিল নজরুলের ‘ছায়ানট’ কবিতা থেকে। পাকিস্তানি শাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এই প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠেছিল মাইলফলক।

মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা

১৯৭১ সালে তিনি সংগীতের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতেন। ঢাকার ঐতিহাসিক রমনা বটমূলে স্বাধীনতার প্রথম প্রভাতী সংগীত আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন তিনি।

“সংস্কৃতি কখনই রাজনীতিনিরপেক্ষ নয়। আমাদের গানই ছিল আমাদের অস্ত্র”
— সনজীদা খাতুন (২০১১ সালে দেওয়া সাক্ষাৎকারে)

দুই বাংলার শোক

  • পশ্চিমবঙ্গ: সংগীতশিল্পী উৎপলা সেন বলেন, “তাঁর চলে যাওয়া মানে এক যুগের অবসান”
  • বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোকবার্তায় বলেছেন, “জাতি একজন সত্যিকারের মাতৃমূর্তিকে হারাল”

#সনজীদা_খাতুন #ছায়ানট #সংস্কৃতি_আন্দোলন #বাংলাদেশ