ATM-এ ব্যালেন্স চেকেও লাগবে বেশি টাকা, ফের বাড়ছে চার্জ, প্রতি লেনদেনে বাড়তি খরচ কত?

আগামী ১ মে, ২০২৫ থেকে এটিএম ব্যবহারের জন্য গ্রাহকদের বেশি চার্জ দিতে হবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) সম্প্রতি এটিএম পরিষেবায় ইন্টারচেঞ্জ ফি বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। এই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে যখন গ্রাহকরা এক মাসে বিনামূল্যে লেনদেনের নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করবেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে এটিএম থেকে টাকা তোলা এবং ব্যালেন্স চেক করার খরচ বাড়বে।
কতটা বাড়বে চার্জ?
RBI-এর নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এটিএম লেনদেনে নিম্নলিখিত হারে চার্জ বাড়ানো হবে:
- টাকা তোলার ক্ষেত্রে: প্রতি লেনদেনে চার্জ ১৭ টাকা থেকে বেড়ে ১৯ টাকা হবে।
- ব্যালেন্স চেক করার ক্ষেত্রে: প্রতি লেনদেনে চার্জ ৬ টাকা থেকে বেড়ে ৭ টাকা হবে।
তবে, এই অতিরিক্ত চার্জ তখনই প্রযোজ্য হবে যখন গ্রাহকরা মাসিক বিনামূল্যে লেনদেনের সীমা অতিক্রম করবেন। মেট্রো শহরগুলিতে (যেমন দিল্লি, মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ) হোম ব্যাঙ্ক ছাড়া অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে বিনামূল্যে লেনদেনের সীমা পাঁচটি, আর মেট্রো শহরের বাইরে এই সীমা তিনটি।
কেন বাড়ল চার্জ?
জানা গেছে, হোয়াইট লেবেল এটিএম অপারেটররা দীর্ঘদিন ধরে ফি বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল, ক্রমবর্ধমান পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় পুরনো ফি পর্যাপ্ত নয়। এটিএম রক্ষণাবেক্ষণ, নিরাপত্তা এবং নগদ ব্যবস্থাপনার খরচ বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ছোট ব্যাঙ্কগুলোও চাপের মুখে পড়েছিল, কারণ তাদের সীমিত পরিকাঠামোর জন্য অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম-এর ওপর নির্ভর করতে হয়। ফি একই থাকায় তাদের খরচ বাড়ছিল, তাই তারা চেয়েছিল গ্রাহকরা তাদের নিজস্ব এটিএম ব্যবহার করুক।
ব্যাঙ্কগুলির আয়ে প্রভাব
এটিএম চার্জ থেকে ব্যাঙ্কগুলির আয়ও উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মালা রায় কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন রাখেন। জবাবে জানা যায়, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত পাঁচ বছরে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) এটিএম লেনদেনের চার্জ থেকে ২,০৪৩ কোটি টাকা আয় করেছে। এটি দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক হিসেবে এই খাতে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব সংগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।
গ্রাহকদের উপর প্রভাব
এই ফি বৃদ্ধি বিশেষ করে ছোট ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের ওপর বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। বড় ব্যাঙ্কের তুলনায় তাদের এটিএম নেটওয়ার্ক সীমিত, ফলে গ্রাহকদের অন্য ব্যাঙ্কের এটিএম ব্যবহার করতে হয়। ফি বৃদ্ধির পর ব্যাঙ্কগুলি এই অতিরিক্ত খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। এদিকে, ডিজিটাল লেনদেনের জনপ্রিয়তা বাড়লেও, যাঁরা এখনও নগদের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য এটি একটি অতিরিক্ত বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ডিজিটাল ব্যাঙ্কিংকে আরও উৎসাহিত করতে পারে। UPI এবং অনলাইন ওয়ালেটের মাধ্যমে লেনদেন বৃদ্ধি পেলেও, এটিএম ব্যবহারকারীদের এখন তাঁদের ব্যাঙ্কিং পরিকল্পনা নতুন করে ভাবতে হবে। আগামী ১ মে থেকে এই নতুন চার্জ কার্যকর হওয়ার আগে গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ—বিনামূল্যে লেনদেনের সীমার মধ্যে থাকুন এবং সম্ভব হলে ডিজিটাল বিকল্পগুলির দিকে ঝুঁকুন।