IVF পদ্ধতিতে জন্ম শিশুর মিলছে না DNA, সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে হাইকোর্টে দম্পতি

শহরের এক আইভিএফ সেন্টারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করলেন এক দম্পতি। তাঁদের অভিযোগ, আইভিএফ পদ্ধতিতে জন্মানো সন্তান তাঁদের নয়! সেন্টার প্রতারণা করেছে এবং চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, বিয়ের পর দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় শহরের একটি আইভিএফ সেন্টারের দ্বারস্থ হন দম্পতি। প্রথম দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও, ২০১৯ সালে তাঁদের কোল আলো করে আসে কন্যাসন্তান। কিন্তু ২০২১ সালে সেই শিশুটির ক্যানসার ধরা পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান, তাকে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করাতে হবে।

এখানেই আসে বড় চমক! শিশুর বোন ম্যারো তার বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলে না। ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা যায়, এই দম্পতির সঙ্গে শিশুটির কোনও জিনগত সম্পর্ক নেই। এরপরই তাঁরা আইভিএফ সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

দম্পতির দাবিতে আইভিএফ সেন্টার শিশুর মায়ের পরিচয় প্রকাশ করলেও, বাবার পরিচয় জানাতে অস্বীকার করে। এর মধ্যেই চিকিৎসা ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৩ সালে শিশুটির মৃত্যু হয়।

ঘটনায় ক্ষুব্ধ দম্পতি থানায় প্রতারণার অভিযোগ জানান। তাঁদের দাবি, তাঁদের অনুমতি ছাড়া অন্য দম্পতির ভ্রূণ প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল এবং তাঁদের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছিল।

দম্পতি অভিযোগ জানান পশ্চিমবঙ্গ ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের (WB CERC)-এ। জানুয়ারি মাসে কমিশন আইভিএফ সেন্টারকে অনিয়মের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে ও ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

তবে ক্ষতিপূরণ চান না দম্পতি। তাঁদের একমাত্র দাবি, আইভিএফ সেন্টারের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তাই এবার তাঁরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং সেন্টারের লাইসেন্স বাতিলের আবেদন করেছেন।

দম্পতির আইনজীবী শ্রীজিব চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শুক্রবার বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে এই মামলার শুনানি হতে পারে। এই ঘটনা শহরের আইভিএফ চিকিৎসা পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলির কার্যপ্রণালীর উপর বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।