“ড্রামাবাজ শুভেন্দু”! আঁচড় বিতর্কে বিরোধী দলনেতাকে কটাক্ষ কল্যাণ-হুমায়ুনের, পাল্টা জবাব BJP-র

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাতে আঘাত লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই ঘটনায় তৃণমূল নেতারা তাঁকে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না। ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেছেন, “শুভেন্দু যাত্রাপালা করছেন,” অন্যদিকে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সরাসরি “ড্রামাবাজ” বলে কটাক্ষ করেছেন।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শুভেন্দু এক নম্বরের নাটকবাজ। ওকে কে মারবে? ৬০ জন সিআইএসএফ ঘিরে রাখে, তাতেও মার খায়? বাজার খুব খারাপ ওর, নাটক-ফাটক করেই চলছে। আমি তো হতাশ, সত্যি সত্যি যদি ও মার খেত তাহলে খুশিই হতাম।”
অন্যদিকে, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, “শুভেন্দু পুলিশকে সরিয়ে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন, পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কিও করছিলেন। কিছু অফিসার নার্ভাস হয়ে গিয়েছিলেন, কারণ শুভেন্দু কখন কাকে ঘুষি মেরে বসবেন বলা যায় না! তাই ওরাই হাত তুলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “শুভেন্দু বারবার হাত দেখিয়ে বলছিলেন, রক্ত বেরিয়েছে! কিন্তু রক্ত তো লাল হয়, ওনার শরীরে তো লালের কোনও চিহ্নই দেখা গেল না! মনে হচ্ছে, ২০২৬ সালের পর ওনাকে যাত্রাপালার দলে যোগ দিতে হবে।”
তৃণমূলের এমন কটাক্ষের পর বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “কল্যাণ একটাই ঠিক বলেছেন—চোর ধরো, জেল ভরো কর্মসূচি চালু করতে হবে।” অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “কল্যাণবাবুর এই ধরনের মন্তব্য করতে গিয়ে উল্টে বিপদ না হয়।”
সোমবার দুপুরে হাওড়ার বেলগাছিয়ায় ঘরহারাদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে তিনি আটকে যান। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তিনি ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, শুরু হয় ধস্তাধস্তি।
এই ধাক্কাধাক্কির মধ্যে শুভেন্দুর হাতে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ। তিনি দাবি করেন, এক এসআই (গোলাম মুস্তার্জা) তাঁকে মেরেছেন, ফলে তাঁর হাত কেটে যায়। তিনি রক্তাক্ত হাত দেখিয়ে অভিযোগ করেন। পরে বিধানসভায় তাঁর হাতে ব্যান্ডেজ করা হয়।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে।