“ঘুম এলে, অথবা বেলাইন হলে ড্রাইভারকে করবে অ্যালার্ট”- গাড়িতে লাগবে নতুন সিকিউরিটি ফিচার

25 web pages

পথ দুর্ঘটনা রুখতে সরকারের নতুন উদ্যোগ: বড় গাড়িতে উন্নত সিকিউরিটি ফিচার বাধ্যতামূলক

নয়াদিল্লি, ২৫ মার্চ, ২০২৫ – ভারত সরকার পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু কমাতে এবং সড়ক নিরাপত্তা বাড়াতে বড় গাড়িতে উন্নত সিকিউরিটি ফিচার বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে বাস, ট্রাক এবং ৮ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী যাত্রীবাহী গাড়িতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য জরুরি পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়ানো এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রক (MoRTH) এই পরিকল্পনার জন্য একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে, যা সেন্ট্রাল মোটর ভেহিকল রুলস সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার (TOI) একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মন্ত্রকের প্রস্তাবে অ্যাডভান্সড ড্রাইভিং অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS) এর মতো উন্নত প্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইমারজেন্সি ব্রেকিং সিস্টেম (AEBS), ড্রাইভারের তন্দ্রা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (DDAWS), লেন ডিপারচার ওয়ার্নিং সিস্টেম (LDWS) এবং ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং সিস্টেম (BSMS)। এই ফিচারগুলি ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে নতুন গাড়িতে এবং অক্টোবর থেকে বিদ্যমান মডেলগুলিতে বাধ্যতামূলক হবে। মিনি ও সাধারণ বাস এবং ট্রাকগুলিতেও AEBS এবং ভেহিকল স্টেবিলিটি ফাংশন থাকতে হবে।

ইমারজেন্সি ব্রেকিং সিস্টেম (AEBS)

ইমারজেন্সি ব্রেকিং সিস্টেম একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার, যা সম্ভাব্য সংঘর্ষ শনাক্ত করে। যদি চালক তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া না দেয়, তবে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করে গাড়ির গতি কমিয়ে দেয়। এর ফলে সংঘর্ষের ঝুঁকি এবং প্রভাব কমে, যা জীবন রক্ষায় সহায়ক।

ড্রাইভারের তন্দ্রা সতর্কীকরণ ব্যবস্থা (DDAWS)

ড্রাইভারের তন্দ্রা ও মনোযোগ পর্যবেক্ষণের জন্য DDAWS চালকের চোখ ও মাথার নড়াচড়া বিশ্লেষণ করে। ইনফ্রারেড ক্যামেরার মাধ্যমে এটি চালকের চোখের অবস্থান, খোলা থাকার সময় এবং দৃষ্টি পর্যবেক্ষণ করে। তন্দ্রা শনাক্ত হলে শব্দ, আলো বা অ্যালার্মের মাধ্যমে চালককে সতর্ক করা হয়, যাতে গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।

লেন ডিপারচার ওয়ার্নিং সিস্টেম (LDWS)

LDWS রাস্তার লেন চিহ্ন শনাক্ত করতে ক্যামেরা বা সেন্সর ব্যবহার করে। গাড়ি যদি ইঙ্গিত ছাড়াই লেন থেকে সরে যায়, তবে এটি অ্যালার্ম বা কম্পনের মাধ্যমে চালককে সতর্ক করে। তবে, এই সিস্টেমের কার্যকারিতা রাস্তার অবস্থা ও লেন চিহ্নের স্পষ্টতার ওপর নির্ভর করে। এটি চালককে সহায়তা করে, কিন্তু রাস্তায় মনোযোগ বজায় রাখা চালকের দায়িত্ব।

ব্লাইন্ড স্পট মনিটরিং সিস্টেম (BSMS)

BSMS গাড়ির পাশে ও পিছনে রাডার সেন্সরের মাধ্যমে ব্লাইন্ড স্পটে আসা যানবাহন বা বস্তু শনাক্ত করে। এটি পাশের আয়নায় আলো বা শব্দের মাধ্যমে চালককে সতর্ক করে, যা লেন পরিবর্তনের সময় সংঘর্ষের ঝুঁকি কমায়। এই ফিচারটি বড় গাড়ির জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

সরকারের এই প্রস্তাবিত ফিচারগুলি ADAS-এর অংশ, যা চালকদের নিরাপদে গাড়ি চালাতে সহায়তা করে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় যানবাহনে এই প্রযুক্তি সড়ক নিরাপত্তায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এই পদক্ষেপ ভারতের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যে একটি বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।