“কেউ ইট মারলে তো রসগোল্লা দেব না”- এবার BJP-র দিলীপের প্রশংসায় TMC-র হুমায়ুন কবীর

খড়গপুরে সাংসদ তহবিলের টাকায় নির্মিত একটি রাস্তার উদ্বোধন করতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন বিজেপি নেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ দিলীপ ঘোষ। বিক্ষোভের জেরে মেজাজ হারিয়ে মহিলাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় তাঁকে, যা নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেও, অপ্রত্যাশিতভাবে তৃণমূলেরই বিধায়ক হুমায়ুন কবীর দিলীপের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, একই পরিস্থিতিতে তিনিও দিলীপের মতো একই পদক্ষেপ নিতেন।

মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর একটি সংবাদমাধ্যমের কাছে বলেছেন, “দিলীপ ঘোষের বক্তব্যকে আমি সমর্থন করি। সাংসদ তহবিলের টাকায় রাস্তা উদ্বোধন করতে গিয়েছিলেন। তাতে বাধা দেওয়ার কী ছিল? তিনি যা করেছেন, ঠিক করেছেন। আমি থাকলেও একই কাজ করতাম। কেউ ইট মারলে আমি তো রসগোল্লা দেব না।” হুমায়ুনের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার খড়গপুর পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে। দিলীপ ঘোষ সেখানে তাঁর সাংসদ তহবিলের অর্থে নির্মিত একটি রাস্তার উদ্বোধনে গিয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় মহিলাদের একাংশ তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় এবং প্রশ্ন তোলে, “এতদিন কোথায় ছিলেন?” এই প্রশ্নের জবাবে দিলীপ মেজাজ হারিয়ে বলেন, “আমি টাকা দিয়েছি। কারও বাপের টাকা নয়। বেশি চিৎকার করলে গলা টিপে দেব।” এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূল এই ঘটনায় দিলীপের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে।

কিন্তু হুমায়ুন কবীর শুধু দিলীপের এই ঘটনার পক্ষেই দাঁড়াননি, তাঁর রাজনৈতিক যাত্রারও প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, “২০১৫ সালের আগে দিলীপ ঘোষ নামে কাউকে কেউ চিনত না। ২০১৫ সালে বিজেপির রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর ২০১৬ সালে খড়গপুর থেকে বিধায়ক হন। ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনে ১৮টি আসন এনে দেন। ২০২১ সালে বিজেপি ৭৭টি আসন পায়। কিন্তু তাঁর দলের শুভেন্দু অধিকারীর মতো লোকরা জেতা আসন থেকে তাঁকে সরিয়ে বর্ধমান-দুর্গাপুরে পাঠিয়ে দেয়। এতে মেজাজ কী করে ঠিক থাকে? এর আগেও দিলীপদাকে অনেক লাঞ্ছনা, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, গাড়ি ঘেরাওয়ের মতো ঘটনায় হেনস্থা করা হয়েছে। আমি হলেও এটা করতাম।”

২০১৯ সালে খড়গপুর লোকসভা আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ। তবে ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি তাঁকে বর্ধমান-দুর্গাপুর আসনে প্রার্থী করে, আর খড়গপুরে দাঁড় করানো হয় অগ্নিমিত্রা পালকে। এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে হুমায়ুন বলেন, “যিনি জিতেছিলেন, তাঁকে সরিয়ে যিনি দাঁড়ালেন, তিনিও হেরে গেলেন। এটা দিলীপদার সঙ্গে অন্যায়।”

অন্যদিকে, হুমায়ুনের এই সমর্থনকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ দিলীপ ঘোষ নিজেই। তিনি বলেন, “দিলীপ ঘোষ একাই আছে, দলের সঙ্গে আছি। আমার সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব। কারও সার্টিফিকেট আমার দরকার নেই।” তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্ট, তিনি নিজের অবস্থানে অটল এবং কোনও বহিরাগত সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে চান না।

এই ঘটনা এবং তার পরবর্তী প্রতিক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। তৃণমূলের অন্দরে হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য কীভাবে গ্রহণ করা হবে এবং দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কোনও আইনি বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে আগামী দিনে সবার নজর থাকবে।