আশ্বাস দিলেও ৭মাস পরও মিলছে না বন্যার ক্ষতিপূরণ, ক্ষোভ কৃষকদের! ‘নীরব’ কৃষি দফতর

বন্যায় বিপুল ক্ষতি হয়েছিল ফসলের, আশ্বাস মিলেছিল ক্ষতিপূরণের। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও এক টাকাও হাতে পাননি বাঁকুড়ার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি কোনও সুরাহা, তাতেই বাড়ছে ক্ষোভ। অভিযোগ, কৃষি দফতর এই বিষয়ে একেবারেই নীরব।

বর্ষার সময় দামোদরের দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ছাড়া অতিরিক্ত জল বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের একাধিক গ্রামে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। উত্তর নিত্যানন্দপুর, কেনেটি মানা, পান্ডে পাড়া, সমিতি মানা ও রাঙামাটি-সহ একাধিক গ্রামে হাজার হাজার বিঘে আমন ধান ও সবজির জমি জলের তলায় চলে যায়। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, ওইসব জমির অধিকাংশই ছিল শস্য বিমার আওতায়। বন্যার পরে প্রশাসন সরেজমিনে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে কৃষকদের বিমার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু এতদিন পরেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে পরিণত হয়নি।

ক্ষতিপূরণের দাবিতে বারবার প্রশাসনের দফতরে গিয়েছেন কৃষকরা। বিডিও অফিস থেকে ব্লক কৃষি আধিকারিকের কার্যালয়—সব জায়গায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, পথ অবরোধও করেছেন। কিন্তু তাঁদের অভিযোগ, এতকিছু করেও প্রশাসন যেন ঘুমিয়ে রয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের। মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বোঝা মাথায় চেপেছে, অনেকেই দেনার জালে জড়িয়ে পড়েছেন।

বিজেপির দাবি, রাজ্য সরকার কৃষকদের প্রতারণা করেছে। সোনামুখীর বিজেপি বিধায়ক দিবাকর ঘরামি সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, কৃষি দফতর ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, কৃষি দফতরের আধিকারিকরা এই নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলতেও নারাজ। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশের অজুহাত দেখিয়ে তাঁরা ক্যামেরার সামনে মুখ খুলছেন না।

ক্ষতিপূরণ আদৌ মিলবে কি না, তা নিয়ে কৃষকদের মধ্যে সংশয় বেড়েছে। তাঁদের ক্ষোভ ধীরে ধীরে বড় আন্দোলনের রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।