প্রতারণা ও পরকীয়া, বয়স্ক স্বামীকে খুন বছর ২১-এর স্ত্রী-র, গ্রেফতার হলেন শাশুড়িও

বেঙ্গালুরুতে এক চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে যশস্বিনী (১৯) ও তার মা হেমা বাইকে (৩৭)। অভিযোগ, তারা পরিকল্পিতভাবে লোকনাথ সিং (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তদ্রাচ্ছন্ন করে, তারপর গলা কেটে হত্যা করেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে ২২ মার্চ, যখন সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পুলিশের জরুরি নম্বর ১১২-তে একটি ফোন আসে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ দেখে, চিক্কাবানবারার এক নির্জন এলাকায় গাড়ির ভিতরে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে রয়েছে লোকনাথের দেহ।
ঘটনার পটভূমি
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, লোকনাথ ও যশস্বিনীর সম্পর্ক শুরু হয়েছিল প্রায় দুই বছর আগে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে কুনিগলে তারা বিয়ে করেন। তবে বয়সের বড় পার্থক্যের কারণে যশস্বিনীর মা হেমা এই সম্পর্ক ও বিয়ের বিরোধিতা করেছিলেন। বিয়ের কথা যশস্বিনী তার মাকে জানায়নি। লোকনাথও বিয়ের পর স্ত্রীকে তার মায়ের বাড়িতে রেখে আসে, যাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে না আসে।
সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে যশস্বিনীর মা বিয়ের কথা জানতে পারেন। এরপর বাড়িতে অশান্তি শুরু হয়। লোকনাথও এই ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। তদন্তে আরও জানা যায়, লোকনাথের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল, যা যশস্বিনী ও তার মায়ের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এই ঘটনা তাদের খুনের পরিকল্পনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছে পুলিশ।
পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
তদন্তকারীদের মতে, লোকনাথকে দুর্বল করতে প্রথমে তার খাবারে ঘুমের ওষুধ মেশানো হয়। ২২ মার্চ যশস্বিনী লোকনাথকে কথা বলার অজুহাতে বাগলুরের কাছে ডেকে আনে। তারা গাড়িতে করে সোলদেবনহল্লির এক নির্জন এলাকায় যায়। হেমা বাই অটোরিকশায় তাদের পিছু নেন। লোকনাথ ঘুমিয়ে পড়লে, গাড়ির ভিতরে ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করা হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল শুধু গলা কেটে খুন করা হয়েছে, কিন্তু পরে ওষুধের ব্যবহারের কথা সামনে আসে।
তদন্ত ও গ্রেফতার
ঘটনার পর লোকনাথের ভাই থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ তদন্তে নেমে দেহ উদ্ধার করে এবং যশস্বিনী ও হেমা বাইকে গ্রেফতার করে। তদন্তে আরও জানা গেছে, লোকনাথের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ ছিল, যার তদন্ত করছিল সিবিআই। পুলিশ মনে করছে, এই আর্থিক জালিয়াতি এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কও খুনের অনুপ্রেরণা হতে পারে।
ওয়েস্ট ডিভিশনের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিশাল কুমার বিকাশ বলেন, “যশস্বিনী ও তার মা হেমা বাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খুনের পেছনের কারণ ও পরিকল্পনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।”
জনমনে প্রভাব
এই ঘটনা বেঙ্গালুরুতে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যার এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়রা হতবাক। তদন্ত এখনও চলছে, এবং পুলিশ আশা করছে শিগগিরই পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হবে।