সপ্তাহের শুরুতেই মা উড়ালপুলে আবারও বাইক দুর্ঘটনা,” তরুণী ও অ্যাপ বাইক চালক গুরুতর আহত

সপ্তাহের শুরুতেই মা উড়ালপুলে আবারও ঘটল বাইক দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় এক তরুণী এবং অ্যাপ বাইক চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাওড়ার ডোমজুড় থেকে সল্টলেকের একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থায় চাকরির পরীক্ষা দিতে আসছিলেন তরুণী। সেই সময় উড়ালপুলে বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার সময় বাইকের সামনের অংশ ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। তরুণীর হেলমেট খুলে গিয়ে উড়ালপুল থেকে নীচে ছিটকে পড়েন। আহত চালককে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, আর তরুণী রুবি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, বাইকের বেপরোয়া গতিই দুর্ঘটনার মূল কারণ।
এই ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠেছে মা উড়ালপুলের নিরাপত্তা নিয়ে। গত বছরও একই উড়ালপুলে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই তরুণ। ওই ঘটনায় বাইক গার্ডওয়ালে ধাক্কা মেরে নীচে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয়েছিল ১৮ বছর বয়সি দিশাদ আলম ও আনিস রানার। পুলিশ জানিয়েছিল, চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও আরোহীর মাথায় হেলমেট ছিল না।
গত বছর ঘটে যাওয়া ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই মা উড়ালপুলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। কিছুদিন আগে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির জন্য রাতে উড়ালপুল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল KMDA কর্তৃপক্ষ। কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল, রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত উড়ালপুল বন্ধ থাকবে। এই সময় যানবাহনগুলোকে নিচের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে বলা হয়েছিল।
তবে, রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হওয়ার পরও উড়ালপুলে দুর্ঘটনা থামছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উড়ালপুলের বাঁক এবং অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার মূল কারণ। পাশাপাশি, অনেক চালক এবং আরোহী হেলমেট ব্যবহার না করায় আহত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং যানবাহন চালকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা দাবি করছেন, উড়ালপুলে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। বিশেষ করে, গতি নিয়ন্ত্রণ এবং হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
পুলিশ এবং প্রশাসনের তরফ থেকে উড়ালপুলে নিয়মিত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন এবং স্পিড ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলা হলেও, তা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এই দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, আহত তরুণী এবং চালকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা আশাবাদী। তবে, এই ঘটনা আবারও সবার মনে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে – কবে নাগাদ মা উড়ালপুলে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে?