‘বিরাট’ দোষে অভিযুক্ত ঋতুপর্ণ, “ওকে ক্ষমা করে দিন”- আর্জি মায়ের

মাকে আগেই বলেছিল, “গুরুদেব” বিরাট কোহলির সামনে দাঁড়াতে পারলেই পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করবে, জড়িয়ে ধরবে। ঠিক সেটাই ঘটল শনিবার ইডেন গার্ডেন্সে। KKR বনাম RCB ম্যাচ দেখতে এসেছিল হাজার হাজার দর্শক, আর সেই ভিড়ের মধ্যেই ছিল পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের কিশোর ঋতুপর্ণ পাখিরা।

মাত্র উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে সে, কলেজ জীবন শুরু করাই বাকি। কিন্তু ক্রিকেটপ্রেম তাকে নিয়ে গেল অন্য এক পথে—ইডেনের গ্যালারি টপকে সরাসরি মাঠে! উদ্দেশ্য একটাই, বিরাট কোহলিকে কাছ থেকে দেখা ও ছোঁয়া।

শনিবার সন্ধ্যায় ইডেনের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে মাঠে নেমে বিরাট কোহলির সামনে গিয়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করে ঋতুপর্ণ। তারপর একঝটকায় জড়িয়ে ধরে নিজের আদর্শকে। কিন্তু সেই মুহূর্ত দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দ্রুত পুলিশ এসে তাকে পিচ থেকে সরিয়ে নিয়ে যায়। দায়ের হয় অপরাধমূলক অনুপ্রবেশের মামলা।

তারপরই ইডেন থেকে সোজা পুলিশের প্রিজন ভ্যানে। কিন্তু এই ঘটনা ক্রিকেটভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন জাগিয়েছে—এ কি দোষের কিছু? অনেকেরই মত, “ভক্তরা আসলে ঋতুপর্ণের মতোই হয়।”

ঋতুপর্ণের মা কাকলী পাখিরা ও গ্রামবাসীরা ছেলের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলছেন, “ওর কোনও অসৎ উদ্দেশ্য ছিল না। বিরাটের প্রতি তার আবেগের কারণে এমনটা করেছে। বিরাট ওর কাছে ভগবানের মতো। প্লিজ, বিরাট ও কলকাতা পুলিশ ওকে ক্ষমা করে দিন।”

পরিবারের দাবি, ঋতুপর্ণ ছোট থেকেই ক্রিকেটের পাগল। প্রথমে জামালপুর, পরে কলকাতার বেলেঘাটায় ক্রিকেট কোচিং করত। পরিবারের সদস্যরা জানতেন, সে ইডেনে IPL দেখতে যাচ্ছে, কিন্তু যে সে এমন দুঃসাহসিক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলবে, তা ভাবতেই পারেননি।

এখন দেখার, পুলিশের তরফ থেকে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং বিরাট কোহলি নিজে এই ঘটনায় কী প্রতিক্রিয়া দেন।