গায়ে সবুজ গেঞ্জি, নিম্নাঙ্গ উন্মুক্ত,-দেহ উদ্ধার ঘিরে এলাকায় শোরগোল, ঘনাচ্ছে রহস্য

উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুভাষপল্লি এলাকায় রবিবার দুপুরে এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির অর্ধনগ্ন দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জলাশয়ের পাশে ওই ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে তদন্ত শুরু করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির পরনে ছিল সবুজ রঙের একটি গেঞ্জি, তবে নিম্নাঙ্গ উন্মুক্ত ছিল। মাথার পিছনে রক্তের দাগ এবং আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, ওই ব্যক্তিকে এর আগে কখনও এলাকায় দেখা যায়নি। তাঁর পরিচয়, এলাকায় আগমনের কারণ এবং মৃত্যুর রহস্য নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনা অবশ্য উত্তর ২৪ পরগনায় সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম নয়। মাস দেড়েক আগে দত্তপুকুরের বাজিতপুরে এক যুবকের মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনায় গেঞ্জি দিয়ে বাঁধা ছিল হাত-পা এবং নিম্নাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন দেখা গিয়েছিল। ১৫ দিন পর একই এলাকা থেকে কাটা মাথা উদ্ধার হয়। তদন্তে উঠে আসে, সম্পর্কের জটিলতার কারণে ওই খুন সংঘটিত হয়েছিল। বারাসত জেলা পুলিশের তদন্তে সেই রহস্যের সমাধান হলেও, হাবড়ার এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা উদয় দত্ত বলেন, “এই ব্যক্তিকে আমরা আগে কখনও দেখিনি। এলাকার লোক বলে মনে হয় না। আমাদের পাড়ায় এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনা নিয়ে পাড়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় প্রাথমিকভাবে খুনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যা, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে। এলাকার বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দত্তপুকুরের ঘটনার পর হাবড়ার এই উদ্ধার এলাকায় নিরাপত্তা ও অপরাধ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশের তৎপরতায় এই রহস্যের জট খুলবে কি না, সেদিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।