“ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহার, অশ্লীল মেসেজ”- স্কুলেও কি ছাত্রীদের নিরাপত্তা থাকবে না? উদ্বেগে সমাজ

পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে একটি স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন ব্যবহারের অভিযোগে আরও এক শিক্ষক গ্রেফতার হলেন। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজন শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, ওই শিক্ষকরা নিজেদের স্কুলের ছাত্রীদের মোবাইলে অশ্লীল মেসেজ পাঠাতেন এবং বিভিন্ন অছিলায় তাদের গায়ে হাত দিতেন। শনিবার রাতে দ্বিতীয় শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয় এবং রবিবার তাঁকে কালনা মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তবে তৃতীয় শিক্ষকের খোঁজে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে পূর্বস্থলী থানার পুলিশ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে গত বৃহস্পতিবার। স্কুলের ছাত্রীরা অভিযোগ করেন, তিন শিক্ষক তাঁদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করতেন। তাঁদের দাবি, শিক্ষকরা মোবাইলে অশ্লীল মেসেজ পাঠাতেন, নোংরা ইঙ্গিতে কথা বলতেন এবং এমনকী শারীরিকভাবে হেনস্থা করতেন। এই অভিযোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছলে তাঁরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে শুক্রবার প্রথম শিক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। শনিবার দ্বিতীয়জন ধরা পড়েন।
এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন অভিযোগ সামনে আসায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিশু সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, “বাড়ির পর স্কুলই শিশুদের দ্বিতীয় আশ্রয়। সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে তা শুধু ওই স্কুলের জন্য নয়, গোটা সমাজের জন্যই এক ভয়ঙ্কর বার্তা দেয়।”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তৃতীয় শিক্ষকের সন্ধানে তদন্ত চলছে। প্রথম গ্রেফতারের পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় স্কুলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন, এই ধরনের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এমন কাণ্ড আর না ঘটে।
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তে আরও কোনও গাফিলতি বা জড়িত ব্যক্তি থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা শিক্ষাক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সচেতনতার প্রশ্নকে আরও জোরালো করে তুলেছে।