পাইপ ফেটে বন্ধ জল পরিষেবা, সুযোগ বুঝে ৩০ টাকার জারই বিকোচ্ছে ৩০০ টাকায়!

উত্তর হাওড়া বিধানসভা এলাকায় পানীয় জলের সংকট চরমে পৌঁছেছে। গত তিন দিন ধরে প্রধান পানীয় জল সরবরাহের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম বিপাকে পড়েছেন। এই সুযোগে অসাধু জল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অগ্নিমূল্যে জল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাধারণত ৩০ থেকে ৫০ টাকায় পাওয়া জলের দাম এখন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠে গেছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী জল ব্যবসায়ীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। ঘটনার তদন্তে এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়।
গত তিন দিন আগে লিলুয়া বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ধস নামার পর থেকেই উত্তর হাওড়ার এক বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। ধসের কারণে পানীয় জলের প্রধান পাইপলাইনে ফাটল ধরে, যার জেরে জল সরবরাহ প্রায় বন্ধের মুখে। এই সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, তারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে জল কিনছেন। এক বাসিন্দা জানান, “আমাদের কাছে জল কেনা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। কিন্তু যে দাম নিচ্ছে, তাতে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়ছে।”
বিধায়ক গৌতম চৌধুরী এই ঘটনায় বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে বলেন, “অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সংকটের সুযোগ নিয়ে ৪০-৫০ টাকার জল ২০০-২৫০ টাকায়, কোথাও কোথাও ৩০০ টাকায় বিক্রি করছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশ প্রশাসনকে বলছি, এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিন।” তিনি জল ব্যবসায়ীদের সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এভাবে মানুষের অসহায়তার সুযোগ নিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মী-আধিকারিকরা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাইপলাইন মেরামতের কাজ চললেও এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসেনি। এর পাশাপাশি কলকাতা কর্পোরেশন এবং উত্তরপাড়া মিউনিসিপালিটি থেকে জলের গাড়ি এনে পাড়ায় পাড়ায় সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে অনেকের অভিযোগ, এতে চাহিদা মিটছে না। যারা পিউরিফায়ার বা কেনা জলের উপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য বাধ্য হয়ে বেশি দামে জল কিনতে হচ্ছে।
মন্ত্রী অরূপ রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, “আমরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝছি। জল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। জল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টিও দেখা হবে।” তিনি আরও আশ্বাস দেন, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
এদিকে, স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জলের গাড়ি থেকে সরবরাহ সত্ত্বেও অনেকের দৈনন্দিন প্রয়োজন মিটছে না। ফলে অগ্নিমূল্যে জল বিক্রির এই প্রবণতি ক্রমশ বাড়ছে। পুলিশ ও প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে কি না, সেদিকে তাকিয়ে এলাকাবাসী।