“৪-৫ দিন থাকছি না, সব সময় যোগাযোগ থাকবে”-লন্ডন যাওয়ার আগে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী মমতার

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শনিবার সন্ধ্যায় লন্ডন সফরের উদ্দেশে দমদম বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়েছেন। দুবাই হয়ে লন্ডন যাচ্ছেন তিনি। এই সফরে তিনি অক্সফোর্ডে ভাষণ দেবেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। বিমানবন্দরে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা জানান, তিনি ৪-৫ দিনের জন্য থাকছেন না, তবে যোগাযোগে থাকবেন এবং রাজ্যে কোনও সমস্যা হলে তা দেখে নেবেন।
সফরে পরিবর্তন
প্রাথমিকভাবে শনিবার সকালে লন্ডনের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা থাকলেও, লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরের কাছে একটি ইলেকট্রিক্যাল সাবস্টেশনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে ফ্লাইট বাতিল হয়। এতে সফরের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সকালের ফ্লাইট ছিল, কিন্তু বাতিল হয়ে গেছে। অনেক অনুষ্ঠানই ব্যাহত হয়েছে। বিজনেস মিটিং, ভারতীয় দূতাবাসে কর্মসূচি, অক্সফোর্ডে ভাষণ—এসবের জন্য যেতে হচ্ছে। তবে সময় খুব কম, মাত্র ৪ দিন। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় যাতায়াতেই অনেক সময় লাগবে।”
ব্যস্ত সময়সূচি
মমতার এই সফরে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষণ ছাড়াও তিনি লন্ডনে ভারতীয় দূতাবাসে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এবং ব্যবসায়িক বৈঠকে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, “সময় খুব হেক্টিক। তবু সকলে ভালো থাকবেন। যোগাযোগে থাকব, কোনও অসুবিধা হলে আমরা দেখব।”
রাজ্যের দায়িত্বে কারা?
মুখ্যমন্ত্রী বিদেশে থাকাকালীন রাজ্যের প্রশাসনিক কাজ চালাতে তিনি একটি টাস্ক ফোর্স এবং পাঁচ মন্ত্রীর হাতে দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন, এই কয়দিন নবান্নে বসবেন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, সুজিত বসু, অরূপ বিশ্বাস এবং ফিরহাদ হাকিম। টাস্ক ফোর্সে রয়েছেন আমলা বিবেক কুমার, প্রভাত মিশ্র, নন্দিনী চক্রবর্তী এবং আইপিএস রাজীব কুমার ও মনোজ ভার্মা।
রাজ্যে প্রভাব
মুখ্যমন্ত্রীর এই সংক্ষিপ্ত সফর রাজ্যে তেমন কোনও প্রভাব ফেলবে না বলেই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, “মমতা দিদি সবসময় যোগাযোগে থাকেন। তিনি বিদেশে থাকলেও রাজ্যের কাজে কোনও ব্যাঘাত হবে না।” তবে বিরোধীরা এই সফরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, “রাজ্যে অনেক সমস্যা মাথাচাড়া দিচ্ছে। এই সময়ে বিদেশ সফর কতটা জরুরি?”
লন্ডন থেকে ফিরে মমতা আবারও রাজ্যের দায়িত্বে ফিরবেন। তবে তাঁর এই সফরে অক্সফোর্ডে ভাষণ এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলার প্রতিনিধিত্ব নজর কাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।