কর্ণাটকে মন্ত্রী বিধায়কদের বেতন দ্বিগুণ, বিধানসভায় পাস নতুন বিল

কর্নাটকের মন্ত্রী, বিধায়ক এবং বিধানসভার অধ্যক্ষদের বেতন ও ভাতা বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে আসরে নামল রাজ্যের শাসকদল। বিধানসভায় পাস হওয়া একটি বিলের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে বিধায়কদের বেতন ও ভাতা ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি পেলেও রাজ্য তহবিলে বাড়তি চাপ পড়তে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

বেতন বৃদ্ধির বিস্তারিত:
বর্তমানে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর মাসিক বেতন ৭৫ হাজার টাকা। নতুন বিল পাস হওয়ার পর এই বেতন এক লাফে বেড়ে দাঁড়াবে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া, মুখ্যমন্ত্রীর অন্যান্য সরকারি ভাতাও বৃদ্ধি পাবে। একইভাবে, বিধায়কদের মাসিক বেতন আগে ছিল ৪০ হাজার টাকা, যা এখন বেড়ে হবে ৮০ হাজার টাকা।

বিধানসভার অধ্যক্ষ এবং উপাধ্যক্ষরাও এই বিলের আওতায় রয়েছেন। তাদের বেতন ও ভাতাও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এই বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা আগের তুলনায় অনেকটাই বাড়ানো হলো।

বিতর্ক ও সমালোচনা:
এই বিল পাসের সময় কর্নাটক বিধানসভায় চলছিল মধুচক্র কাণ্ড নিয়ে তীব্র বিতর্ক। রাজ্যের সমবায় মন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, প্রায় ৪৮ জন শাসক ও বিরোধী দলের মন্ত্রী-বিধায়ক একটি মধুচক্রের ফাঁদে পা দিয়েছেন। এই অভিযোগের পর বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়। তবে এর মধ্যেই নির্দ্বিধায় পাস হয়ে যায় বেতন বৃদ্ধির বিল।

এই বিলের সমালোচনা করে বিরোধী দল এবং একাংশের বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, রাজ্যের তহবিলে বাড়তি চাপ পড়তে চলেছে। জানা গিয়েছে, এই বিলের জেরে কর্নাটক সরকারের বার্ষিক খরচ প্রায় ১০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পাবে। এই বাড়তি খরচ রাজ্যের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গ:
কর্ণাটকের এই সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গের প্রসঙ্গও সামনে আসছে। তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত পশ্চিমবঙ্গে মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন সর্বশেষ ২০১৭ সালে বৃদ্ধি করা হয়েছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য সরকার মন্ত্রী ও বিধায়কদের বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়েছিল। কর্নাটকের এই সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গেও মন্ত্রী-বিধায়কদের বেতন বৃদ্ধির দাবি উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেষ কথা:
কর্ণাটকের এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক সুবিধা বাড়ালেও, এটি রাজ্যের তহবিলে বাড়তি চাপ ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জনপ্রতিনিধিদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজেও নজর দেওয়া উচিত। কর্নাটকের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য রাজ্যেও আলোচনার জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে যেখানে দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি।