সৌরভ রাজপুতের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ্যে, খুনের পর দেহ খণ্ডিত করার পরিকল্পনা মুসকান এবং সাহিলের

গত ৩ মার্চ, মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা শুনে মানুষের শিরদাঁড়ায় শিহরন উঠে যাচ্ছে। সৌরভকে খুনের কথা স্বীকার করেছে তার স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি এবং তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্ল। পুলিশি জেরায় মুসকান এবং সাহিল জানিয়েছেন, খুনের পর সৌরভের দেহ খণ্ডিত করার পরিকল্পনা ছিল তাদের, তবে প্রথমদিকে তাদের পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খুনের পর প্রথমে সৌরভের দেহ বাথরুমে নিয়ে যায় মুসকান ও সাহিল। এরপর সৌরভের মাথা এবং হাত কেটে ফেলার কাজ শুরু হয়। সৌরভের মাথা একটি পলিথিন ব্যাগে ভরে রাখা হয়, এবং তাঁর কাটা হাত সাহিল শুক্ল নিজের বাড়িতে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, মুসকান সৌরভের মাথা একটি খাটের বক্সে ঢুকিয়ে সারা রাত তার সঙ্গে কাটায়, অর্থাৎ মাথাবিহীন দেহের সঙ্গে রাত কাটান তিনি।

এরপর, মুসকান এবং সাহিল বাজার থেকে বিশাল আকারের প্লাস্টিকের ড্রাম কিনে এনে সৌরভের দেহের টুকরোগুলি সেখানে ভরে সিমেন্ট এবং কাঠের গুড়ো দিয়ে তার মুখ বন্ধ করে দেয়। এই অমানবিক কাজের মাধ্যমে তারা সৌরভের দেহ খণ্ড খণ্ড করে ফেলে। পুলিশ ধারণা করছে, এটি যেন এক সিনেমার দৃশ্য, এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, খুনের আগের দিন, ৩ মার্চ, সৌরভ তার মায়ের বাড়ি থেকে লাউয়ের কোফতা নিয়ে আসেন। মুসকান সেই কোফতায় ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়, যা খেয়ে সৌরভ গভীর ঘুমে চলে যান। তারপরেই সাহিল এবং মুসকান খুনের পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছায়।

এ ঘটনা মুম্বাই পুলিশে হইচই ফেলেছে এবং এখনো তদন্ত চলছে। নিহত সৌরভ রাজপুতের পরিবার এবং সমাজে এই অমানবিক খুনের ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।