আরজি কর নির্যাতিতার ‘ডেথ সার্টিফিকেট’ বাড়িতে পৌঁছে দিলেন স্বাস্থ্যসচিব, বাবা বলছেন, ‘বেশি কায়দা’

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণ ও খুনের শিকার হওয়া এক তরুণী চিকিৎসকের বৃদ্ধ বাবা-মা অবশেষে তাঁদের মেয়ের মৃত্যু শংসাপত্র হাতে পেলেন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম নিজে তাঁদের বাড়িতে গিয়ে এই শংসাপত্রটি পৌঁছে দেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে এই ‘ডেথ সার্টিফিকেট’-এর জন্য দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন এই দম্পতি। দীর্ঘ সাত মাসের লড়াইয়ের পর তাঁরা তা পেলেন।

নিহত তরুণীর পরিবারের অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর শংসাপত্র পেতে তাঁদের বারবার বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। কলকাতা পুরনিগম (কেএমসি) এবং আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের মধ্যে দায়িত্ব নিয়ে জটিলতার কারণে এই শংসাপত্রটি আটকে ছিল। কে এটি দেবে, তা নিয়ে কোনও স্পষ্টতা ছিল না। সম্প্রতি আরজি কর মামলা সুপ্রিম কোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টে ফিরে আসার পরই কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দেখা যায়।

তরুণীর বাবা বলেন, “মামলা হাইকোর্টে ফিরতেই তড়িঘড়ি সার্টিফিকেট দেওয়া হল। আমরা বারবার বলেছি, বেশি কায়দা না করে আমাদের দিয়ে দিন। আমরা নিজেরাই ঠিক জায়গা থেকে নিয়ে নিতাম। যাই হোক, পেয়েছি বলে ধন্যবাদ। তবে বাবা হয়ে মেয়ের ডেথ সার্টিফিকেটের জন্য এভাবে ঘুরতে হওয়াটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক।” এরপরই বুধবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যসচিব নিজে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে শংসাপত্রটি দিয়ে আসেন।

তিনি আরও জানান, “আজ আমার মেয়ের অরিজিনাল ডেথ সার্টিফিকেটের কপি দিয়ে গেলেন। স্বাস্থ্যসচিব বলে গেছেন, ভবিষ্যতে আরও কপি লাগলে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি দিয়ে দেবেন। আমাদের কাছে সার্টিফিকেটের লিঙ্কও পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে আমরা প্রিন্ট আউট করতে পারব।”

তাঁদের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা তুলে ধরে তরুণীর বাবা বলেন, “গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ফোনে চেষ্টা শুরু করেছিলাম। এ বছর ৩১ জানুয়ারি আমরা লিখিতভাবে আবেদন জানাই। তারপর থেকে কখনও আরজি কর, কখনও কলকাতা পুরসভার বোরো অফিস, কখনও স্বাস্থ্য ভবনে ছুটতে হয়েছে।” অবশেষে বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিট নাগাদ স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের হাত থেকে আট মাসের প্রতীক্ষার পর সেই শংসাপত্র হাতে পান নির্যাতিতার বাবা-মা।

এই ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ ও বেদনার মধ্যেও পরিবারটির জন্য এটি একটি ছোট স্বস্তি। তবে তাঁদের এই দীর্ঘ সংগ্রাম প্রশাসনিক ত্রুটির একটি নমুনা হয়ে রইল।