বিশেষ: যে দেশে ১০০ বছরেও জন্ম হয়নি কোনো শিশুর, নেই কোনো হাসপাতাল, জেনেনিন কোথায়?

এমন একটি দেশ আছে, যেখানে গত ১০০ বছরে একটি শিশুরও জন্ম হয়নি। শুধু তাই নয়, একবিংশ শতাব্দীতেও সেখানে একটি হাসপাতাল নেই। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। বলছি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম দেশ ভ্যাটিকান সিটির কথা, যেটি রোমান ক্যাথলিক গির্জার প্রধানের আবাসস্থল।
ভ্যাটিকান সিটির ইতিহাস
ভ্যাটিকান সিটি একটি স্থলবেষ্টিত স্বাধীন রাষ্ট্র। অতীতে এটি ইতালির রোমের অংশ ছিল। ১৯২৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘ল্যাটেরান চুক্তি’র মাধ্যমে ইতালি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ভ্যাটিকান সিটি স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশ, যার আয়তন মাত্র ১১৮ একর। বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের কাছে এটি তাদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র।
কেন জন্ম হয় না শিশু?
আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ১৯২৯ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে ভ্যাটিকান সিটিতে একটিও শিশুর জন্ম হয়নি। এর প্রধান কারণ, দেশটিতে কোনো প্রসূতিবিভাগ বা হাসপাতাল নেই। গর্ভবতী মহিলা বা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য প্রতিবেশী রোমে যেতে হয়। ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষের মতে, দেশটির সীমিত ভৌগোলিক আকার এবং রোমে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকার কারণে হাসপাতাল নির্মাণের প্রয়োজন হয়নি।
হাসপাতাল নির্মাণে অনীহা
বহুবার আবেদন করা সত্ত্বেও ভ্যাটিকান সিটিতে হাসপাতাল তৈরির অনুমতি মেলেনি। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, দেশটি এতই ছোট যে রোগীদের রোমে স্থানান্তর করতে বেশি সময় লাগে না। তবে এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছে রহস্যজনক।
জনসংখ্যা ও অপরাধ
ভ্যাটিকান সিটির জনসংখ্যা মাত্র ৮০০-৯০০ জন। এর বেশিরভাগই বর্ষীয়ান ক্যাথলিক ধর্মযাজক। জনসংখ্যা কম হলেও অপরাধের হার তুলনামূলকভাবে বেশি। দোকান লুট, ব্যাগ ছিনতাই ও পকেটমারির মতো ঘটনা এখানে প্রচলিত। স্থানীয়রা এর জন্য পর্যটকদের দায়ী করেন।
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম রেলস্টেশন
ভ্যাটিকান সিটিতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে ছোট রেলওয়ে স্টেশন ‘সিটা ভ্যাটিকানো’। এতে দুটি ৩০০ মিটার দৈর্ঘ্যের রেললাইন রয়েছে। পোপ পিয়াস একাদশের শাসনকালে নির্মিত এই স্টেশনটি শুধু পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হয়। যাত্রীবাহী ট্রেন এখানে চলাচল করে না।
তুলনায় পিটকেয়ার্ন
ব্রিটেন নিয়ন্ত্রিত দ্বীপপুঞ্জ পিটকেয়ার্নের জনসংখ্যা ৫০-এরও কম। সেখানেও বেশ কয়েক বছর ধরে শিশুর জন্ম হয়নি। তবে পিটকেয়ার্ন কোনো স্বাধীন দেশ নয়।
ভ্যাটিকান সিটি তার ক্ষুদ্র আকার ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের জন্য বিশ্বে আলোচিত। ১০০ বছরে কোনো শিশুর জন্ম না হওয়া এবং হাসপাতালের অনুপস্থিতি এই দেশটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। তবে এর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্য এটিকে বিশ্বের কাছে এক অনন্য স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।